
হাওড়ার এক ছাত্রীকে নিউমার্কেটের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করা হল। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ সাইবার অপরাধীদের হাত রয়েছে বলেই অনুমান করছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের ছাত্রীর সঙ্গে ইন্টাগ্রামে আলাপ হয় সাইবার অপরাধীদের একটি চক্রের। সেখানেই তারা ছাত্রীর সঙ্গে রীতিমত ভাব জমায়। ছাত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়। জানতে পারে ছাত্রীটি বিদেশে যাওয়ার ব্যাপাকে উৎসাহীয তারপরই বিদেশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর থেকে ছাত্রীর আর কোনও খোঁজ ছিল না। পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল ছাত্রী তার আধার কার্ড-সহ যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছে তাদের কাছ থেকে কোনও টাকাপয়সা নেয়নি ছাত্রী।
পুলিশ সূত্রের খবর, বন্ধুদের থেকে কিছু টাকা ধার করে ছাত্রীটি পাড়ি দেয়। একটি সরকারি বাসে চেপেই কলকাতায় পৌঁছায় ছাত্রী। সেখানে আগে থেকেই একটি হোটেল ভাড়া করে রেখেছিল অপরাধীরা। সেই হোটেলেই ছাত্রীকে আটকে রাখে।
পুলিশ সূত্রের খবর, অপরাধীরা ছাত্রীকে হোটেল ঘরে আটকে রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবিও করে। টাকা না দিলে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে গোটা ঘটনা জানিয়ে ছাত্রীর পরিবার জগৎবল্লভপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সাইবার সেল, রাজ্য পুলিশের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি-সহ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারাও ছিলেন দলে। অভিভাবকের ফোনে আড়ি পেতে অভিযুক্তদের খোঁজ করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, নিউ মার্কেট থানায় এলাকার একটি হোটেলে মেয়েটি একাই রয়েছে।
বুধবার রাতে নিউমার্কেটের হোটেলে তল্লাশি চালিয়েই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে অপরাধীরা চম্পট দেয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান অপরাধীরা আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানায় তাদের ঘাঁটি রয়েছে বলেও অভিযোগ।