তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নতুন নাম পেয়েছে—‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। কিন্তু এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরে এসেছে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে একটি পেজ। সেখানে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি, ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়ে গিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (All India Trinamool Congress) নামে একটি পেজ। সেই পেজে নিয়মিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি, ভিডিয়ো এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য পোস্ট করা হচ্ছে। ফলে কমিশনের নির্দেশের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পেজের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে নাম ও প্রতীক নিয়ে বিবাদের জেরে ১৮ সেপ্টেম্বর ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা (ফ্রিজ) জারি করে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—এই দুই গোষ্ঠীই নিজেদের মূল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করায় নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ নেয়।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, উপনির্বাচনে কোনও শিবিরই পুরনো দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের জন্য ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে, অপর শিবিরের জন্য ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে থাকা পেজটি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। বুধবার ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই পেজে, বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও রয়েছে। সেই ছবিতে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে মমতার উপস্থিতির ছবি পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কমিশনের নির্দেশ যেখানে পুরনো নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলছে, সেখানে ওই নামে সোশ্যাল মিডিয়া পেজ কীভাবে সক্রিয় রয়েছে?
তবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও পেজের নাম থাকা এবং নির্বাচনী কাজে দলের নাম ব্যবহার—দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখা যায় কি না, তা নিয়েও আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। কমিশনের নির্দেশ মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ওই পেজের ক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও পৃথক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
এরই মধ্যে নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত মূল বিবাদ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করতে বলেছে। তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নামের অধিকারী কে, চার মাসের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।


