
দুর্গাপুজো মানেই কলকাতায় জনস্রোত আর রাস্তায় গাড়ির জট। তাই ২০২৬-এ ঠাকুর দেখার সেরা উপায় হল মেট্রো। কলকাতা মেট্রো এবার সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সারা রাত চলবে দুপুর ১টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত ব্লু ও গ্রিন লাইনে। তাই মেট্রোতে উঠুন আর ক্লাস্টার ধরে পুজো দেখুন।
এখানে নামলে সবচেয়ে লাভ। কালীঘাট মেট্রো থেকে বেরিয়ে প্রথমে একটু হেঁটে দেখে আসতে পারেন চেতলা অগ্রণী। এরপর মেট্রো স্টেশনের দিকে চলে এসে পরপর দেখতে শুরু করুন দেশপ্রিয় পার্ক, ত্রিধারা সম্মিলনী, বালিগঞ্জ কালচারাল, হিন্দুস্থান ক্লাব, সিংহি পার্ক, একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজো। কাছেই রয়েছে বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ, বোসপুকুর তালবাগান সর্বজনীন, বোসপুকুর শীতলা মন্দিরের পুজো। একটু এগিয়ে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো থেকে দেখে নিন একদিকে মুদিয়ালি ক্লাব ও শিবমন্দির দেখে নিতে পারেন। অন্যদিকে আনোয়ার শাহ ক্রসিং থেকে লর্ডস হয়ে পৌঁছে যেতে পারেন যোধপুর পার্ক, যোধপুর পার্ক ৯৫ পল্লি, সেলিমপুর পল্লির পুজোয়। এ ছাড়াও, এই মেট্রো স্টেশনে নেমে বাস বা অটো ধরে দেখে নিতে পারেন সুরুচি সঙ্ঘ।
উত্তর কলকাতার বনেদি পুজো দেখতে নামুন গিরিশ পার্কে। এখান থেকে পায়ে হেঁটে - সিমলা ব্যায়াম সমিতি, চোরবাগান সর্বজনীন, চালতা বাগান, কাশীবোস সেন, পাথুরিয়াঘাটা, জোড়াসাঁকোর পুজো। শোভাবাজার থেকে জগৎ মুখার্জি পার্ক, আহিরীটোলা সর্বজনীন, আহিরীটোলা যুবক বৃন্দ, বেনিয়াতলা সর্বজনীন, কুমোরটুলি সর্বজনীন, কুমোরটুলি পার্ক।
যতীন দাস পার্ক মেট্রো থেকে নেমে প্রথমে দেখে নিন হাজরা পার্ক, ২৩ পল্লি, ফরওয়ার্ড ক্লাব, মাতৃমন্দির, বকুল বাগান সর্বজনীন, সঙ্ঘশ্রী পুজো প্যান্ডেল রয়েছে যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশনের কাছে। পুজো মানেই বাঙালির প্রিয় আড্ডা। বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে এই স্টেশন থেকে একবার ঢুঁ মারতেই পারেন ম্যাডক্স স্কোয়ারে। এরপর অটো নিয়ে খিদিরপুর চলে যান। এখানে মাত্র ১.৭ কিমি হাঁটলেই পরপর পেয়ে যাবেন - ২৫ পল্লী, ৭৪ পল্লী, ৭৫ পল্লী, খিদিরপুর সর্বজনীন ও পল্লী শারদীয়া। এক রুটে ৬টা পুজো, কোনও ব্যাকট্র্যাকিং নেই।
অন্যদিকে নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশনের কাছে দেখে নিতে পারেন ৭৫ পল্লি, হরিশ পার্ক, অগ্রদূত উদয়ন সঙ্ঘ, ৬৮ পল্লির পুজো।
এসপ্ল্যানেডে ব্লু ও গ্রিন লাইন মিলছে। এখান থেকে মেট্রো বদল করে পৌঁছে যেতে পারেন বিধাননগরের একাধিক ব্লকের পুজো দেখে নিতে পারেন। অন্যদিকে, দুর্গা পুজোয় প্যান্ডেল হপিং হবে অথচ পেটপুজো হবে না, তা যেন ‘বেআইনি’। তাই প্যান্ডেল হপিংয়ের মধ্যে টুক করে ঢুঁ মারতে পারেন এসপ্ল্যানেড এবং পার্কস্ট্রিট এলাকার রেস্তোঁরাগুলিতে।
মধ্য কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো দেখতে এই স্টেশনে নামা যায়। এ ছাড়াও দেখতে পারেন সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে পুজো। এর পরে চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনে নেমে দেখে নিতে পারেন জানবাজার রাজবাড়ি এবং তালতলা সর্বজনীন। অন্যদিকে
মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন থেকে বেরেই দেখে নেবেন মহম্মদ আলি পার্ক এবং কলেজ স্কোয়ারের পুজো। ২টিই মধ্য কলকাতার পুরোনো এবং বিখ্যাত সর্বজনীন পুজো। আবার যদি মনে করেন হাওড়া চলে আসবেন মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটা বাস ধরে পৌঁছে যেতে পারেন হাওড়া স্টেশন।
উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশনে নেমে দর্শনার্থীরা খুব সহজেই কলকাতার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক পুজো মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখতে পারবেন। এই স্টেশনের কাছাকাছি যে সমস্ত দর্শনীয় পুজো রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বাগবাজার সর্বজনীন, শ্যামবাজার ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন, হাতিবাগান সর্বজনীন, শিকদার বাগান, হাতিবাগান নবীন পল্লি, কবিরাজ বাগান সর্বজনীন, নলিন সরকার স্ট্রিট শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক আলোর রোশনাইয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায় এই এলাকাগুলিতে।
মেট্রোর স্মার্ট কার্ড বা Aamar Kolkata Metro App থেকে টিকিট কাটুন, লাইন এড়াতে পারবেন। রাত ১১টার পর ভিড় অনেক কমে যায়। আর অবশ্যই আরামের জুতো পরুন।