মহালয়ার ভোরে অভিনব মুহূর্ত। উত্তর কলকাতার হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়ি যেন আক্ষরিক অর্থেই মহালয়ার দিনটিকে একটি আলাদা উৎকর্ষতায় নিয়ে গেল। মহালয়া আসলে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের শুভ সূচনার একটি সন্ধিক্ষণ। যার মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়ে থাকে। মা আসছেন। দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিই আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুললেন ডঃ অর্চিস্মান রায়-ব্যানার্জি সহ এই বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা। তবে শুধু বাড়ির লোকেরাই নন, সাধারণ অনেক মানুষ মহালয়ার ভোরে হাজির হয়েছিলেন উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়িতে।
24
দেবীপক্ষের শুভ সূচনায় যুক্ত হল আলাদা উৎকর্ষতা
ভোরবেলাই খুলে দেওয়া হয় বাড়ির গেট। অনেকেই জড়ো হয়েছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে। একদিকে চলছে “বাজল তোমার আলোর বেণু" আর সবাই মিলে একসঙ্গে তা শুনছেন। পাশাপাশি চলছে মায়ের চোখে তুলির টান। এই মুহূর্ত যেন আক্ষরিক অর্থেই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যপূর্ণ এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো কলকাতার মধ্যে অন্যতম। যে পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কত কত গল্প-কথা। ইতিহাসের আঁতুড়ঘর, শহরের এই বনেদি বাড়িতে আবারও দুর্গাপুজোরআগেই নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন দেখা গেল।
34
সবাই মাতলেন ধুনুচি আছে
মহালয়ার ভোরে, বাঙালির চেনা সেই নস্টালজিয়া যেমন ছিল, তেমনই ছিল ধুনুচি নাচ। কারণ, বাঙালির ঐতিহ্য হচ্ছে ধুনুচি। তাই ধুনুচির ছন্দেই হল দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়ার ভোরে একদিকে চলছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে সেই পাঠ এবং তারপরেই সবাই মাতলেন ধুনুচি আছে।
পাশাপাশি পায়রা ওড়ালেন বাড়ির বাসিন্দারা। সবাই বলে উঠলেন জয় মা দুর্গা। ঢাকের বাদ্যি, বাংলার কাঁসা, শাঁখ এবং উলুধ্বনির সুরে মা দুর্গা যেন ক্রমশই জাগ্রত হয়ে উঠছেন।