Durga Puja 2026: ধুনুচি নাচ এবং ঢাকের বাদ্যি, আক্ষরিক অর্থেই বাঙালির প্রিয় দুর্গাপুজোর ফ্লেভার উপভোগ করলেন প্রত্যেকে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই ইভেন্ট ছিল আরও আকর্ষণীয়। হাত ধরে কিংবা কাঁধে হাত রেখে চলল ফটোসেশন। অনেকেই আবার এসেছিলেন বন্ধুদের গ্রুপ নিয়ে। অর্থাৎ, দুর্গাপুজো মানে কী? সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকা এই কয়েকটা দিনের জন্য।

Durga Puja 2026: বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসছে। মাঝে আর মাত্র কয়েকটা দিন। মা আসছেন। তারপরেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেবী দুর্গার আগমন। আর তার আগেই কার্যত, কলকাতায় এক অভিনব উৎসবের ছোঁয়া (Durga Puja 2026)। “ধুনুচির ছন্দে আগমনী", অসাধারণ এক প্রি-পুজো সেলিব্রেশন। উত্তর কলকাতার হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়িতে (Ray Banerjee Bari History) শনিবার, এমনই এক দুর্দান্ত ইভেন্টের সাক্ষী থাকলেন অনেকে। যেখানে তরুণ প্রজন্মের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বয়সকে হার মানিয়ে আরও অনেকেই এসেছিলেন শনিবারের বিকেলে।

YouTube video player

ধুনুচি নাচ এবং ঢাকের বাদ্যি, আক্ষরিক অর্থেই বাঙালির প্রিয় দুর্গাপুজোর ফ্লেভার উপভোগ করলেন প্রত্যেকে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই ইভেন্ট ছিল আরও আকর্ষণীয়। হাত ধরে কিংবা কাঁধে হাত রেখে চলল ফটোসেশন। অনেকেই আবার এসেছিলেন বন্ধুদের গ্রুপ নিয়ে। অর্থাৎ, দুর্গাপুজো মানে কী? সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকা এই কয়েকটা দিনের জন্য। তার আগেই এই মেগা সেলিব্রেশনে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ করলেন। আর তার মাঝেই চলতে থাকল পালা করে ধুনুচি নাচ এবং সঙ্গে ঢাকে পড়ল কাঠি। কেউ এসেছেন দক্ষিণ কলকাতা থেকে, আবার কেউ হাওড়া কিংবা হুগলি থেকেও। এক তরুণী জানালেন, “এখনও বয়ফ্রেন্ড হয়নি। জানিনা এবারের পুজোটাও সিঙ্গেল কাটবে কিনা? তবে আপাতত মজা করছি বন্ধুদের সঙ্গে। এবার নাচতে যাবো।।"

আরও পড়ুন - Durga Puja 2025: সে এক বিরাট রাজপ্রাসাদ, মাঝে ধ্যানে মগ্ন শিব! অভিনব থিমে তাক লাগিয়ে দিল বেহালা নতুন দল

“ধুনুচির ছন্দে আগমনী" হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়িতে অভিনব সেলিব্রেশন

আরেক প্রেমিক যুগলের কথায়, “এই প্রথম এইরকম ইভেন্টে এলাম। ভালো লাগছে।" এক তরুণ বলছেন, “গোটা জীবনটাই তো লড়ে চলা। তাই প্রেম বারবার আসে।" নিঃসন্দেহে প্রেম তো বারবার আসবেই। আপাতত শনিবার, সবার প্রেম ছিল উত্তর কলকাতার হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়িকে কেন্দ্র করে। ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যপূর্ণ এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো কলকাতার মধ্যে অন্যতম। যে পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কত কত গল্প-কথা। ইতিহাসের আঁতুড়ঘর, শহরের এই বনেদি বাড়িতে এবার দুর্গাপুজোর আগেই নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন। এই প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা তথা এই বাড়ির বাসিন্দা অর্চিস্মান রায়-ব্যানার্জি এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে জানালেন, “এটা বাংলায় প্রথমবার। হরকুটিরের হাত ধরে আমরা পথ দেখাচ্ছি। বাংলা এবার আসলেই উৎসবে ফিরল। বাঙালির ঐতিহ্য হচ্ছে ধুনুচি। তাই ধুনুচির ছন্দে আগমনী। ঠিক একমাস পর মহাষ্টমী। যেদিন মা মহিষাসুর বধ করেছিল। মাকে আহ্বান জানিয়ে, বাংলার ঐতিহ্য ধুনুচি নাচ, ঢাক, বাংলার কাঁসা, বাংলার শাঁখ এবং উলুধ্বনি দিয়ে আমরা এখন থেকে মাকে জাগ্রত করছি। যাতে মা সকলের মধ্যে ঐক্যতা আনতে পারে এবং বাংলার যে গৌরব তথা আমরা ইউনেস্কো স্ট্যাটাস পেয়েছি দুর্গাপুজোর জন্য। তো সেই দুর্গাপুজোর ছন্দে যাতে মানুষ ফিরে যায়, তাই ধুনুচির ছন্দে আমরা এই প্রোগ্রাম করছি। আমি বারোতম প্রজন্ম। আমাদের পুজো এবার ৩৩৪ তম বর্ষে পা রাখতে চলেছে। আমি ডঃ অর্চিস্মান রায়-ব্যানার্জি। আপনাদের চ্যানেলের মাধ্যমে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা সকলে আমাদের পুজোতে আসবেন।"

তরুণ প্রজন্মের ভিড়, কী জানালেন উদ্যোক্তারা?

তাঁর কথায়, "আমরা মনে করি, জেন-জিদের মধ্যে প্রচুর ক্যাপাসিটি আছে। তাই তাদেরকে নিয়েই আমাদের এই প্রোগ্রাম। সবথেকে বড় বিষয়, এই পুজোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের এই প্রোগ্রাম। যাতে তারা আরও ভালো করে আমাদের কালচারটাকে সুষ্ঠুভাবে আত্মস্থ করে আমাদের পরের প্রজন্ম হিসেবে আরও দশগুণ ভালো প্রোগ্রাম করতে পারে। যাতে আমাদের ছাপিয়ে যেতে পারে। সমৃদ্ধ করতে পারে।"

সবিমিলিয়ে, ইতিহাস, নতুনত্ব, বাঙালিয়ানা এবং বনেদি ছোঁয়ায় হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়ি হয়ে উঠল উৎসবের ঠিকানা।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।