
Fire Crackers Rules: পরিবেশবান্ধব কালী পুজোর উৎসবের বার্তা দিতে বিশেষ উদ্যোগ পরিবেশ দফতরের । শব্দবাজি ও অতিরিক্ত শব্দদূষণ এড়িয়ে আলোর উৎসবে সামিল হওয়ার আহ্বান। উৎসব হোক আনন্দের, কিন্তু সেই আনন্দের কারণে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি। কালীপুজো ও দীপাবলীতে বাজি পোড়ানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা পরিবেশ দফতরের , নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
আসন্ন কালীপুজো, দীপাবলি এবং ছটপুজো উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের আনন্দ বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও শব্দদূষণ রোধে কঠোর নির্দেশিকা জারি করল পরিবেশ দফতর । পরিবেশ দফতরের তরফে পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও প্রেস কনফারেন্স করে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট ও পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনেই এ বছর রাজ্যে কেবলমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ব্যবহার করা যাবে।
দীপাবলি আগামী ৮ নভেম্বর দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা মাত্র এই দু ঘণ্টা বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে বা পরে কোনোভাবেই বাজি পোড়ানো যাবে না। ছটপুজো ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা—এই দু’ঘণ্টা বাজি ব্যবহারের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে।
শব্দসীমা শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল এবং আলো উৎপন্নকারী বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেল মাত্রা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
সংবেদনশীল এলাকা হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো ধরনের বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
যথাযথ লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া ফানুস বা স্কাই ল্যান্টার্ন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
নিয়ম ভাঙলে কড়া আইনি ব্যবস্থা ও কন্ট্রোল রুম
প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশিকা কার্যকর করতে পুলিশ এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে। বিশেষ করে বড় বড় হাউজিং কমপ্লেক্স বা উচ্চতম ভবনগুলোতে যাতে নিয়ম লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেবে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা তথা গ্রেফতারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষ যাতে যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারেন, তার জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুম এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরগুলি 18003453390 সক্রিয় রাখা হচ্ছে। অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে ভুটানের ড্যাম ও সংকোশ নদী সংক্রান্ত সাম্প্রতিক জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।