৮০ বছর বয়স। এই বয়সেও রোজ ভোর ৬টায় ভাড়ার ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রবীন্দ্রনাথ সরকার। কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যখন বাড়ি ফেরেন, তখন রাত ১০টা বা ১১টা। এভাবেই চলছে তাঁর জীবন সংগ্রাম।

প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই ৮০ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ সরকারের এক কঠিন লড়াই শুরু হয়। ভোর ৬টায় তিনি ভাড়ার ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এরপর প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালান। হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন বাড়ি ফেরেন, তখন রাত বাজে ১০টা বা ১১টা।

চৈতালী বোস নামে এক ডিজিটাল ক্রিয়েটর এই প্রবীণ ট্যাক্সি চালকের প্রতিদিনের রুটিন নিয়ে একটি আবেগঘন ইনস্টাগ্রাম ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওটিতে শুধু রবীন্দ্রনাথবাবুর হার না মানা জেদই নয়, তাঁর ও তাঁর ৭৭ বছর বয়সী স্ত্রীর কঠিন বাস্তবটাও তুলে ধরা হয়েছে। এই বয়স্ক দম্পতিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন চৈতালী।

রবীন্দ্রনাথবাবু ৫২ বছর ধরে স্টিয়ারিং ধরেছেন, কিন্তু এত বছরের পরিশ্রমেও আর্থিক সুরক্ষা জোটেনি। ট্যাক্সিটি যেহেতু ভাড়া করা, তাই রোজগারের পরিমাণ যাই হোক না কেন, তাঁকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট ভাড়া মেটাতে হয়। সঙ্গে রয়েছে জ্বালানির খরচ। এই সব খরচ দেওয়ার পর সামান্যই কিছু হাতে থাকে। এমনকি নিজের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও তিনি জোগাড় করতে পারেন না।

View post on Instagram

এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই। তাঁরা বছরের পর বছর ধরে দমদমের কাছে বসবাস করছেন। তাঁদের লড়াই শুধু স্বাস্থ্য বা টাকার নয়। বাড়ির টিনের চালে ফাটল, অ্যাসবেস্টসের শিট ভাঙা। বর্ষাকালে সেখান থেকে জল পড়ে। এমনকি ভাঙা জানালা সারানোর মতো আর্থিক অবস্থাও তাঁদের নেই।

বাড়ন্ত বয়স আর দুর্বল শরীর সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথবাবু কাজ থামাতে নারাজ। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর হাত কাঁপছে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। এই দৃশ্যই তাঁর শারীরিক কষ্টের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবুও যাত্রীরা যখন ভাড়া নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি নম্রভাবে বলেন, "আপনার যা ইচ্ছে হয়, তাই দেবেন।"

এই আবেগঘন ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হতেই মানুষের মধ্যে সহানুভূতির ঢল নামে। কমেন্ট সেকশনে শত শত ব্যবহারকারী তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। অনেকে আবার ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সাহায্যের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

একজন কমেন্টে লিখেছেন, "এঁরা সেই মানুষ যাঁরা ভিক্ষা করবেন না, বরং কাজ করবেন। এক অনুপ্রেরণা।"