kolkata Durgapuja: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। কাশফুল আর ঢাকের আওয়াজের আগেই মাটির গন্ধ মেখে সেজে ওঠে উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি। তবে এবারের পুজোয় কুমোরটুলির ছবিটা একেবারেই আলাদা। শুধু প্রতিমা নির্মাণের ঐতিহ্য নয়, এবার হেরিটেজ ট্যুরিজমের এক নতুন ঠিকানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এই এলাকা। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে আদানি গোষ্ঠীর অর্থানুকূল্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে সুবিশাল সৌন্দর্যায়নের কাজ। কুমোরটুলি থেকে চাঁপাতলা ঘাট পর্যন্ত হুগলি নদীর বিস্তীর্ণ পাড়কে দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন রূপ।
বাঙালির কাছে কুমোরটুলি শুধুই এক টুকরো ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, কুমোরটুলি বাঙালির এক পরম আবেগ। এক চিলতে কারখানা থেকে জন্ম নেয় দশভুজা, আর সেই প্রতিমা বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে পাড়ি দেয় বিশ্বের কোণায় কোণায়। প্রতি বছর পুজো আসার মুখে দেশ-বিদেশের পর্যটক, আলোকচিত্রী এবং শিল্পপ্রেমীরা ভিড় জমান গঙ্গার তীরের এই শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরেই এই ঘাট সংলগ্ন এলাকাগুলোর উপযুক্ত পরিকাঠামো ও আধুনিক সৌন্দর্যায়নের অভাব চোখে পড়ত। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে চলেছে।
কুমোরটুলি ঘাট থেকে চাঁপাতলা ঘাট পর্যন্ত হুগলি নদীর প্রায় ৩০০ মিটার অংশ জুড়ে এখন চলছে জোরকদমে নির্মাণকাজ। পোর্ট ট্রাস্ট ও আদানি গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
বাজেট ও বাস্তবায়ন: প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ বেসরকারি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও হেরিটেজ সংরক্ষণের আওতায় এই প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। বিগত প্রায় দু'মাস ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে এই কাজ।
সম্ভাব্য উদ্বোধনের দিনক্ষণ: বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই নবসজ্জিত ঘাটের শুভ উদ্বোধন হতে পারে। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তুলতে অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির থাকতে পারেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি স্বয়ং।
সাধারণ নাগরিক এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য এই ৩০০ মিটার জুড়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে একাধিক নাগরিক ও আধুনিক সুবিধা:-)
নান্দনিক পার্ক ও বসার ব্যবস্থা: বয়স্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম—সবার জন্য গঙ্গার হাওয়া খাওয়ার মতো পরিপাটি বাঁধানো ঘাট ও সবুজ ঘেরা আধুনিক পার্ক।
ফুড কোর্ট ও ক্যাফে জোন: নদীপাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা এবং আড্ডা জমানোর জন্য থাকবে ক্যাফেটেরিয়া ও স্বাস্থ্যসম্মত ফুড কোর্টের পরিকাঠামো।
হেরিটেজ সংরক্ষণ ও স্থাপত্য সংস্কার: ঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রেখে পুরোনো সুতানুটি ফাঁড়ি ও পুলিশ আউটপোস্টের সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পুনর্নির্মাণ ও আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সুবিধা: পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্লক।
প্রকল্পের বিশেষ আকর্ষণ:
বসার সুব্যবস্থা ও পার্ক: সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নদীর হাওয়া খাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে মনোরম পার্ক ও সুসজ্জিত বসার জায়গা।
আধুনিক পরিকাঠামো: গড়ে তোলা হচ্ছে ফুড কোর্ট ও আধুনিক টয়লেট ব্লক।
হেরিটেজ সংস্কার: সুতানুটি ফাঁড়িসহ পুরোনো পুলিশ আউটপোস্ট এবং স্থানীয় মন্দিরের ঐতিহ্য বজায় রেখে করা হচ্ছে সংস্কার।
ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে কুমোরটুলি ঘাট এখন শুধু মৃৎশিল্পের চারণভূমি নয়, কলকাতার অন্যতম সেরা রিভারফ্রন্ট ট্যুরিজম স্পট হয়ে ওঠার পথে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের পর এই নতুন ঘাট শহরের মানুষের কাছে কতটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার।