কলকাতার বিজ্ঞানীর বিশ্বজয়! ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন মেডেল পেলেন অশোক সেন

Published : Oct 23, 2026, 11:48 PM IST
Ashok Sen

সংক্ষিপ্ত

২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন মেডেল পাওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছেন অশোক সেন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস (ICTS)-এর ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ তিনি।

ব্ল্যাক হোলের রহস্য উন্মোচন থেকে মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বোঝা— আধুনিক পদার্থবিদ্যার জগতে স্ট্রিং থিওরি নিয়ে গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন কলকাতায় জন্মানো বিশিষ্ট ভারতীয় পদার্থবিদ অশোক সেন। ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন মেডেলে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। স্ট্রিং থিওরি এবং ব্ল্যাক হোল সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর দীর্ঘ কয়েক দশকের কাজই এই সম্মানের অন্যতম ভিত্তি। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে ফের আলোচনায় উঠে এলেন ভারতীয় এই গবেষক।

কলকাতা থেকে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমঞ্চে

১৯৫৬ সালের ১৫ জুলাই কলকাতায় জন্ম অশোক সেনের। তাঁর বাবা অনিল কুমার সেন ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। ফলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও বিজ্ঞানের আবহে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান তিনি। কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যাপীঠে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৯৭৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আইআইটি কানপুর থেকে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন আমেরিকায়। স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন তিনি।

স্ট্রিং থিওরিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ অশোক সেনের গবেষণা?

অশোক সেনের গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র স্ট্রিং থিওরি। সহজ ভাষায়, এই তত্ত্বে মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদান এবং প্রকৃতির বিভিন্ন বলকে একটি বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। প্রচলিত ধারণায় মৌলিক কণাগুলিকে বিন্দুর মতো বিবেচনা করা হলেও, স্ট্রিং থিওরিতে সেগুলিকে অতি ক্ষুদ্র কম্পনশীল স্ট্রিং বা সুতোর মতো বস্তু হিসেবে কল্পনা করা হয়।

এই গবেষণায় অশোক সেনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান ‘এস-ডুয়ালিটি’ (S-duality)। এর মাধ্যমে স্ট্রিং থিওরির বিভিন্ন তত্ত্ব ও পরিস্থিতির মধ্যে থাকা গভীর গাণিতিক সম্পর্ক বোঝার নতুন দিগন্ত খুলেছে। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় এই ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে শক্তিশালী ও দুর্বল পারস্পরিক ক্রিয়ার সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এস-ডুয়ালিটির ধারণা গবেষকদের নতুন দিশা দেখিয়েছে।

ব্ল্যাক হোলের রহস্য বুঝতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

স্ট্রিং থিওরির পাশাপাশি ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে অশোক সেনের। বিশেষ করে ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি বা বিশৃঙ্খলার পরিমাপ নির্ভুলভাবে গণনা করার ক্ষেত্রে তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ। ব্ল্যাক হোলের ভিতরে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোয়ান্টাম অবস্থার সংখ্যা গণনা করে তার এনট্রপি ব্যাখ্যা করার গবেষণা আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্ট্রিং ফিল্ড থিওরি নিয়েও তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে স্বীকৃত।

প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ হিসেবে নজির

২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন মেডেল পাওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছেন অশোক সেন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস (ICTS)-এর ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ তিনি। সুইডিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নামাঙ্কিত এই পদক ১৯৮৮ সালে চালু হয়। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের নোবেল কমিটি যৌথভাবে এই সম্মান প্রদান করে।

এর আগেও একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন অশোক সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স এবং ২০১৪ সালে ডিরাক মেডেল পান। এ ছাড়াও পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে অস্কার ক্লেইন মেডেল তাঁর সম্মানের তালিকায় নতুন পালক যোগ করল। কলকাতা থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রা ভারতীয় বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রেও এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকল।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

টিস্যু পেপারে লেখা '২৩ নম্বর গেটে বোমা মজুত', আবার কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক
সারান্ডার জঙ্গল ছেড়ে কলকাতায়! আত্মসমর্পণ মাওবাদী দম্পতির, ঘনিষ্ঠতা ছিল কিষেণজির সঙ্গেও