
Mamata Banerjee News: ভোটবঙ্গের শেষলগ্নে 'মিম' ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। বিষয়টি নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি কমিশনের। আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন। তার আগে সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুৎসিত একটি ভিডিয়ো। যা কমিশনের চোখে পড়তেই পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুৎসিত আক্রমণ করা হয়েছে। ভিডিয়োটি নজরে আসতেই তথ্য প্রযুক্তি মামলায় পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে নতুন করে একগুচ্ছ পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্পূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া শেষ হলেই ওয়েবকাস্টিংয়ের ক্যামেরা খুলতে হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট বার্তা দিলেন—প্রথম দফার মতোই সমগ্র রাজ্যজুড়ে সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন, লক্ষ্য একটাই: অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ।
তিনি জানান, নির্বাচনকে কখনও আলাদা করে ‘ফেজ ওয়ান’ বা ‘ফেজ টু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গোটা রাজ্যের জন্যই সমানভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার ভোটে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে—এই অভিজ্ঞতাকেই ভিত্তি করে দ্বিতীয় দফায় আরও জোরদার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিজে একাধিক জেলা, গ্রাম এবং চিহ্নিত ‘ভালনারেবল’ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। তাঁর কথায়, মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, এবং দ্বিতীয় দফায় অনেক জায়গাতেই মানুষ সেই হার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফায় আসনের সংখ্যা কম (১৪২), ফলে এলাকা নিয়ন্ত্রণ বা ‘এরিয়া ডমিনেশন’ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। প্রথম দফায় ব্যবহৃত প্রোটোকল ও মেশিনারি ইতিমধ্যেই ‘ট্রায়েড অ্যান্ড টেস্টেড’—প্রয়োজনে সামান্য সংযোজন করে আরও শক্তিশালী করা হবে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গায় ছিটেফোঁটা অশান্তির প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং প্রথম দফার আগেও কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তবে ভোটের দিন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাঁর আশ্বাস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এবং শেষ পর্যন্ত আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—ভোট দেওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা থেকে কোনও যোগ্য ভোটারকে বঞ্চিত করা যাবে না। কোনও ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন হলে ভোটাররা কন্ট্রোল রুম, স্থানীয় থানার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে পারবেন।
সব মিলিয়ে কমিশনের দাবি, প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।