
রবিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে পদযাত্রা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন, যেখানে ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। এর আগে বিধানসভা ভোটের প্রথম দফায় তিনি নন্দীগ্রাম থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এদিন ভবানীপুরের রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রায় বহু সমর্থক ভিড় জমান।
রবিবার বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে পদযাত্রা শুরু করেন মমতা। তিনি চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। কালীঘাট, হরিশ মুখার্জি রোড -সহ প্রায় গোটা ভবানীপুর এলাকাই পায়ে হেঁটে প্রচার করেন মমতা। কখনও অলিগলি। কখনও মেন রোডে হয় মমতার পদযাত্রা। বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে শেষ করেন পদযাত্রা। প্রায় ৮৭ মিটিন পদযাত্রা করেন।
এদিন পদযাত্রার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা জনতার সঙ্গে কথা বলেন। জনতার উদ্দেশ্যে হাতও নাড়েন।
যদিও ২৩ এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফার ভোটে ৯২.৩৫ শতাংশের মতো বিপুল ভোট পড়েছিল, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আসল লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে এই ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে বাঙালি, গুজরাটি, মাড়োয়ারি এবং শিখ সম্প্রদায়ের মিশ্র বসতি রয়েছে, যা দুই দলের কাছেই একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার শেষ হতে যখন আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, তখন কলকাতা জুড়ে চরম সতর্কতা। নির্বাচন কমিশন ভবানীপুর-দক্ষিণ কলকাতা বেল্টে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং আধাসামরিক বাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়েছে।
এই কেন্দ্রের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মমতার জন্য, "কলকাতার সিংহাসন" ধরে রাখতে ভবানীপুরে জেতাটা আবশ্যক। অন্যদিকে, শুভেন্দুর কাছে এখানে জয়লাভ করা হবে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারানোর পর আরও একটি বড় সাফল্য।
এর আগে শনিবার, ভবানীপুরের লড়াই অন্য মাত্রায় পৌঁছায় যখন দুই প্রধান প্রতিপক্ষ একে অপরের কাছাকাঠি কাছে জনসভা করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটি বিজেপির "সবচেয়ে বড় লক্ষ্য"। ২০১১ সাল থেকে এই আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দখলে।
শনিবার চক্রবেড়িয়া রোডে সমস্যা শুরু হয় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎই তাঁর বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে যান। তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর সভার লাউডস্পিকারের আওয়াজ ইচ্ছাকৃতভাবে এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে তাঁর বক্তৃতা শোনা না যায়।
এই "ইচ্ছাকৃত গোলমালের" কারণে হতাশ মমতা সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁর প্রস্থানের পর, ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির সমাবেশের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে "জয় বাংলা" এবং "জয় শ্রী রাম" স্লোগানে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং স্থানীয় পুলিশ মানবশৃঙ্খল তৈরি করে দুই দলকে আলাদা করে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড়সড় কোনও গন্ডগোল এড়ানো সম্ভব হয়।