বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এক মাস যেতে না যেতেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস দলের নেতৃত্ব নিজের হাতে রাখাই মমতার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের রাশ প্রায় হাত ছা়ড়া হয়ে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যে তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত। অন্যদিকে সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদের একটা বড় অংশই মমতাকে ছেড়ে নতুন দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছে। এই অবস্থায় আজ নির্বাচন কমিশনের কাছে শুনানি রয়েছে ঋতব্রত না মমতা-কার হাতে থাকলে তৃণমূলের রাশ। মমতার সামনে যে পাঁচটি চ্য়ালেঞ্জ রয়েছে সেগুলি হলঃ
26
২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে সফল করা
২১ জুলাই শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান। সেটি সফল করা মমতার সামনে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ সভার অনুমতি দেয়নি। কালীঘাটপন্থীদের পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থীরাও এই অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ২১ জুলাই বড় অনুষ্ঠান করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় নিজের সভাতে লোকটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সবথেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
36
নির্বাচন কমিশনের
তবে সবার আগে মমতার লড়াই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। তৃণমূলের প্রতীক আর দলীয় তহবিল কাদের হাতে থাকবে কালীঘাট না ঋতব্রতপন্থীদের হাতে? তাই নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দুই পক্ষ। আজ, ৬ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫:৩০ মিনিটের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরপর তা নিয়ে শুনানি হবে। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয় সেটাই এখন দেখার।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা
একের পর এক তৃণমূল সাংসদ বিধায়ক দল ছাড়ছেন। ছোটবড় সকল নেতাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিও উঠছে তৃণমূলের অন্দরে। কিন্তু মমতা অভিষেকের মাথা থেকে হাত সরাতে এখনও নারাজ। কী করে মমতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন তাই এখন দেখার।
56
দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
তৃণমূল সূত্রের খবর সাংসদ - বিধায়করা বিদ্রোহী হলেও দলের নিচুতলার নেতা কর্মীদের অধিকাংশই এখনও পর্যন্ত মমতার ওপর আস্থা রেখেছেন। এই অবস্থায় দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাও মমতার সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও তৃণমূলের নিচু নেতাদের ওপর সরকার পক্ষের চাপ বাড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
66
জনসমর্থন পুনর্গঠন ও ধরে রাখা
বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাংসদ বিধায়করাও তাঁর ও অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এই অবস্থায় নিজের সপক্ষে জনমত ধরে রাখাও কঠিন চ্যালেঞ্জ মমতার সামনে। ২১ জুলাই যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহিদ স্মরণসভা সফল করতে পারেন তাহলেই বোঝা যাবে তাঁর পক্ষে কতটা জনমত রয়েছে।