
পশ্চিমবঙ্গে আগামীকাল ভোটের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার প্রস্তুতি চলছে। এর ঠিক আগে মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের সমর্থনেই তিনি ভবানীপুরে জিতবেন।
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু বলেন, "আমি নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভরসা করে লড়ছি না, লড়ছি সাধারণ মানুষ আর কর্মীদের সমর্থনে... আমি কাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়ে হারাব।" প্রসঙ্গত, শুভেন্দু নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুটি কেন্দ্র থেকেই লড়ছেন।
আগামীকাল ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াই হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা এই আসনের বিদায়ী বিধায়ক। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে তাঁর হার এবারের লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, "২০২১ সালের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর মমতার পুলিশ আমার বিরুদ্ধে ৩৫টা এফআইআর করেছিল এবং আমাকে একাধিকবার বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।" বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর ছেড়ে দেন। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথা উল্লেখ করে বলেন, "দল প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে প্রচার করেছে এবং অমিত শাহ নিজে বলেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যেরই ভূমিপুত্র হবেন।" তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর লক্ষ্য একটাই, "আমার একমাত্র লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো, আর আমি সেই মিশনের জন্যই কাজ করছি।"
শুভেন্দু রাজ্যে ভোটারদের মধ্যে বিপুল উৎসাহের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, "প্রথম দফায় ৯৩% হিন্দু ভোট দিয়েছেন, যা আগে দেখা যায়নি। আর তাঁরা কালকের জন্যও তৈরি। আমরা শিক্ষিত মুসলিমদেরও ভোট পাব, যাঁরা সরকার বদল চান এবং 'বন্দে মাতরম' নিয়ে যাঁদের কোনও সমস্যা নেই।" এই বক্তব্যের সমর্থনে তিনি গুজরাটের মুসলিম-প্রধান ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপির সাম্প্রতিক জয়ের উদাহরণ দেন। বিরোধী দলনেতার মতে, নারী সুরক্ষা এবং বেকারত্বের মতো বিষয়গুলিই রাজ্যে "বিশাল পরিবর্তনের হাওয়া" তৈরি করেছে।
"এই মাটি দেশপ্রেমের মাটি, আর কিছু লোক একে দুর্বল করতে চায়... নারী সুরক্ষা ও বেকারত্ব বড় ইস্যু এবং রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে... আমরা অন্তত ১৭০টির বেশি আসন জিততে চলেছি।"
পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ভোটগণনা হবে। তার আগে দুই দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে পর পর চতুর্থবার জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, সেখানে ২০২১-এর ভোটে ৭৭টি আসন পেয়ে শক্তি বৃদ্ধি করার পর বিজেপি এবার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নেমেছে।