
কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এই রাজ্যের জনাদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যায়নি। আর সেই কারণেই তাঁর আর তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেকের ও'ব্রায়ন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, 'আমরা হারিনি। ১০০টা আসন লুঠ করে নেওয়া হয়েছে। কমিশনই ভিলেন।' মমতার অভিযোগ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোট গণনা কেন্দ্রে তাঁর ও তাঁর দলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। 'ভিতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে। পিছনে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল কমিশন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী -এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মমতা আরও বলেন, এখনই তিনি পদত্যাগ করেননি। বলেন,'কেন পদত্যাগ করব? জোর করে ভোট লুঠ করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?'
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানান বিরোধী জোট ইন্ডিয়া-র শক্তিবৃদ্ধি করবেন তিনি। সকল বিরোধী নেতৃত্ব তাঁকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্যে হারতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় ইন্ডিয়া জোটের কথা উঠে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। তিনি, 'ফ্রি বার্ড।' তিনি আরও বলেন, তিনি সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আগামী দিনে আরও করবেন। এবার তিনি শুধুমাত্র মানুষের ওপর অত্যাচার হলে রুখে দাঁড়াবেন।
মমতা বলেন, তাঁরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন সিপিএম-এর একটিও পার্টি অফিস ভাঙেননি। তাঁর দলের নেতা কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় আসার পরে রবীন্দ্রসঙ্গীত আর নজরুলগীতি গাইতে বলেছিলেন। মমতা আরও বলেন, সিআরপিএফ রাজ্যে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করছে। তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালেও এই জিনিস দেখেননি। মমতা জানিয়েছেন, '১৯৭২ সালের সন্ত্রাসের কথা শুনেছি। চোখে দেখিনি। তবে এই সরকার সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।'
মমতা বলেন, বিজেপি গতকাল থেকেই তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলের চেষ্টা করছে। তৃণমূল ভবনেও হামলা হতে পারে। বিজেপির নিশানায় রয়েছে অভিষেকের অফিসও। মমতা বলেন, বিজেপি কাউন্টিং সেন্টারও হাইজ্যাক করে ভোটে জিতেছে। তারপরই রাজ্যে অশান্তি করছে। মমতা বলেন,'ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকতে না। নির্বাচনে হার-জিত রয়েছে। ওরা জোর করে জিতেছে। সিআরপিএফ গুন্ডার মত আচরণ করেছে।' মমতা আরও বলেন, 'আমি অনেক সরকার দেখেছি। কিন্তু এদের মত দেখিনি। এরা ভয়ঙ্কর। এরা গণতন্ত্র মানে না।'