আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। আজ কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। ২০০১ সালে কালচারাল মাও এস্টেটের মেম্বার হিসেবে জয়েন করেন শকুন্তলা। পরে ঝাড়খণ্ড ওড়িশা বর্ডারে কাজে জড়ান। সেখান থেকেই বাংলায় কিছু মাওবাদী কার্যকলাপ চালাতেন।

আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। আজ কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। তিনি একটি এস এল আর , ৪০ রাউন্ড কার্তুজ এবং ম্যাগাজিন-সহ আত্মসমর্পণ করেন। ২০০১ সালে কালচারাল মাও এস্টেটের মেম্বার হিসেবে জয়েন করেন শকুন্তলা। পরে ঝাড়খণ্ড ওড়িশা বর্ডারে কাজে জড়ান। সেখান থেকেই বাংলায় কিছু মাওবাদী কার্যকলাপ চালাতেন। বেলপাহাড়ির মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা শকুন্তলা চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি মাওবাদী কার্যকলাপ থেকে বেরিয়ে আসেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শকুন্তলা মূলত সারান্ডা জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। ঝাড়গ্রাম ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন থানা এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ ছিল। ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর মাথার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর বাড়িতে আদালতে হাজিরার নোটিশও সাঁটিয়ে দিয়েছিল। ২০০৩ সালে এই ঝাড়গ্রামে স্কোয়াডে থাকাকালীন এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে আলাপ হয়। ২০০৪-এ এমসিসি ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠী মিলে গঠিত হয় সিপিআই (মাওবাদী)। ২০০৫-এ ঝাড়খণ্ডের তামাড় জঙ্গলে অতুলের সঙ্গে বিয়ে হয় শকুন্তলার। তিনি অবশেষে মূলস্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। 

আত্মসমর্পণ করার পরে শকুন্তলা বলেন, “আমি মনে করি এখানকার যে পরিস্থিতি এখন এই আন্দোলন এখন ঠিক নয়, তাই আত্মসমর্পণ করেছি। এই সরকার বলেছে মূল স্রোতে ফিরে আসতে তাই আমি ফিরে এসেছি। সরকারের উপর অনেক আশা রয়েছে। তাই ফিরে এসেছি। যারা এখনও বেঁচে আছে তাদেরও আমি আহ্বান জানাচ্ছি যেন এসে আত্মসমর্পণ করে। ফিরে আসুক ঘর সংসার করুক।”

গত মে মাসে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস—যিনি ‘বেলা’ নামেও পরিচিত তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। নদিয়ার চাকদার বাসিন্দা বেলা মাওবাদীদের ‘ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক কমিটি’র সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই রাজ্যে সক্রিয় ছিলেন। এরই পাশাপাশি, হুগলির বাসিন্দা ও ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় আরেক মাওবাদী মাধাই পাত্রও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।