DA News: মার্চের মধ্যেই বাংলার সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে সুখবর! ২৫ নয়, মিলতে পারে ৪০ শতাংশ?

Published : Feb 20, 2026, 10:36 AM IST

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ। ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫% বকেয়া মেটানোর সময়সীমা। কর্মীদের জন্য বড় আর্থিক সুখবরের বিস্তারিত প্রতিবেদন।

PREV
111

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। কর্মীদের পাওনা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর এটি স্পষ্ট যে, সরকার আর কর্মীদের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখতে পারবে না। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই বাংলার সরকারি কর্মীরা একটি বড়সড় আর্থিক সুখবর পেতে চলেছেন।

211

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় জমে থাকা সমস্ত বকেয়া ডিএ কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে।

311

আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মহার্ঘ ভাতা কোনো দয়া বা দান নয়, বরং এটি কর্মীদের একটি আইনত বলবৎযোগ্য অধিকার (Legally Enforceable Right)। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থেকে কর্মীদের রক্ষা করার জন্য এটি একটি জরুরি হাতিয়ার।

411

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে বর্তমান অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে ফেলতে হবে। এমনকি এই ২৫ শতাংশের প্রথম কিস্তিটি আগামী ৬ মার্চের মধ্যেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশে প্রায় ১২ থেকে ২০ লক্ষ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী উপকৃত হবেন।

511

বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া টাকা কীভাবে এবং কত কিস্তিতে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে এই কমিটি আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়ার পরিমাণ এবং একটি নির্দিষ্ট পেমেন্ট শিডিউল চূড়ান্ত করবে।

611

এই পরিস্থিতিতে কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্বরা অত্যন্ত আশাবাদী। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের চাপে সরকার এখন কোণঠাসা ।

711

তিনি দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ সরকারি শূন্যপদ শূন্য রয়েছে। এদের বেতন ও ভাতা দিতে যে টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা সরকারের বেঁচে যাচ্ছে। বলেন, ‘টাকার ব্যাপারটা তো এই সব টাকা আমাদের। ৬ লক্ষেরও বেশি সরকারি পদ শূন্য। ৬ লক্ষ সরকারি পদের বেতন, ভাতা দিতে কত টাকা লাগে, সেটা দিতে হচ্ছে না।’

811

মলয়বাবুর অভিযোগ, কর্মীদের হকের সেই টাকা দিয়েই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘যুবশ্রী’ বা বিভিন্ন পুজো কমিটিকে অনুদান দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই টাকাগুলোতেই তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী অন্যান্য মেলা, দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে দিচ্ছেন।’

911

তাঁর মতে, আদালতের নির্দেশিত ২৫ শতাংশ এবং কমিটির সুপারিশ মিলিয়ে কর্মীরা মার্চ মাসের শেষে ৩৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ হাতে পেতে পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে লক্ষাধিক শূন্যপদ থাকায় সরকারের যে বিপুল টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, তা দিয়েই কর্মীদের প্রাপ্য মেটানো সম্ভব।

1011

যদিও রাজ্য সরকার এই রায়ের প্রেক্ষিতে আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

1111

আগামী ১৫ এপ্রিল রাজ্যকে এই নির্দেশ পালনের একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সব মিলিয়ে, মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ বাংলার সরকারি কর্মীদের জন্য এক বড় পাওনা নিয়ে আসতে চলেছে

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories