
বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বেনজির বাকবিতণ্ডা। যা পৌঁছে বাপ ধরে টানাটানি পর্যন্ত। শুক্রবার বাজেট বিতর্কের আলোচনায় ভাষণ দিচ্ছিলেন বিজেপি (BJP) বিধায়ক অশোক লাহিড়ি। সেখানে ওড়িশা সরকারের নানা উন্নয়নের উদাহরণ দেন তিনি। পাল্টা আক্রমণ করে শাসকদল। মন্ত্রী উদায়ন গুহ বলেন, 'ওরা তো বাঙালিদের মারছে। কিছু বলুন।' পাল্টা প্রতিবাদ করে বিরোধী শিবিরও। সেখান থেকে টিপ্পনি কাটেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, উদয়ন গুহকে ‘গুন্ডা’ বলে আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। একথা শুনে তৃণমূল বিধায়করা সরব হন। দুই পক্ষ হইচই শুরুর পর স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দু’পক্ষকেই থামিয়ে ফের বক্তৃতা শুরু করতে বলেন।
এরপর উদয়ন গুহকে বলার অনুমতি দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। উদয়ন এরপর বলেন, 'আমার বাবা কমল গুহ সাতবার বিধায়ক ছিলেন। ১৯ বছর মন্ত্রী ছিলেন। আমার বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি কিছু সমালোচনা করেছিলাম।' এরপর আবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আপনি তো আপনার বাবাকেই চোর বলেছেন।' এরপরই উদয়ন বলেন, 'আপনি তো শিশিরবাবুর ছেলে। কিন্তু নিজেকে বলেন মোদীর ব্যাটা। তাহলে আপনি আসলে কার ছেলে?'
উদয়ন গুহর এই মন্তব্যে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। জোর হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে আঙুল তুলে স্লোগান দিতে থাকে। তখন স্পিকার জানিয়ে দেন, এই ইস্যুতে কারও বক্তব্যই রেকর্ডে রাখা হচ্ছে না। বিধানসভা অধিবেশনের মাঝে এভাবে পিতৃপরিচয় নিয়ে শাসক-বিরোধীর বাদানুবাদ একেবারেই নজিরবিহীন।
এর আগে বিধানসভায় বিতণ্ডায় জড়ান বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুপ্রবেশকারী ও ক্রিমিনাল ইস্যু তুলে শাসকদলকে নিশানা করেন অগ্নিমিত্রা। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বাড়িয়েছে। মাদ্রাসা পড়ার পরে কেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না কেউ? কেউ কেউ কেন ক্রিমিনাল হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাস শিক্ষায় বাজেটে বরাদ্দ ১০ শতাংশ বেড়েছে। তা সত্যিই শিক্ষায় নাকি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে? সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে।’
তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিধানসভায় হট্টগোল শুরু হয়। অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আমরা ক্রিমিনাল নই। এ পি জে আবদুল কালাম ক্রিমিনাল? কাজি নজরুল ইসলাম ক্রিমিনাল? আপনাদের ধিক্কার। আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। আপনাদের ধিক্কার। লজ্জা করে না।’