
বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করে দেবে বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। এখন সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা এই প্রকল্পে পান মাসে এক হাজার টাকা। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পান মাসে ১,২০০ টাকা। এবার থেকে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা পাবেন ১৫০০ টাকা করে। আর তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন মাসে ১৭০০ টাকা।
বাজেটের পরে বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভোটের মুখে ভোট টানতে সরকার বিভিন্ন ভাতা বাড়িয়েছে। বিজেপি সরকারে এলে তৃণমূল সরকারের চেয়ে ডাবল টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বলেন,'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নাকি এই সরকার দেশে প্রথম চালু করেছে। এই ধরনের প্রকল্প প্রথম চালু হয় মধ্যপ্রদেশে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান লাডলি বহেন চালু করেছিলেন। তারপরে আসামে সর্বানন্দ সোনোয়াল চালু করেন। পরে অনেক রাজ্য এটা চালু করেছে। বিজেপি সরকার থাকা অনেক রাজ্যে এটা চালু হয়েছে। লাখপতি দিদি কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে। ওড়িশায় সুভদ্রা যোজনায় এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মহারাষ্ট্রে ২০০০ টাকা দেওয়া হয়। হরিয়ানায় ২১০০ টাকা দেওয়া হয়। ২১ টি রাজ্যে এরকম মহিলাদের নিয়ে স্কিম রয়েছে। আমি আমাদের সংকল্পপত্র কমিটির কনভেনরকে পাশে দাঁড় করিয়ে বলছি, আমরা অনেক আগেই বলেছি। এপ্রিল মাসে বিজেপি সরকার এলে মে মাসের ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নিয়ে পয়লা জুনের আগে আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে ঢোকাব। এটা মিনিমাম। এটা আরও বাড়তে পারে, কমবে না।'
লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে রাজ্যের নেওয়া সিদ্ধান্ত নির্বাচন মাথায় রেখেই করা হয়েছে বলে অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার। তাঁর কথায়, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেবলমাত্র ভোটের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে। সিভিক, প্যারা টিচার এবং যুবশ্রী এপ্রিলে হবে। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আইপ্যাকের বুদ্ধিতে মার্চের মধ্য়ে ঢুকিয়ে দেবে। মাসের প্রথমেই ৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি। অসৎ উদ্দেশেই এই ভোট-অন-অ্যাকাউন্টটা পেশ হয়েছে। আর গোয়াতে ওরা মহিলাদের পাঁচ হাজার টাকা দেবে বলেছিল, কিন্তু বাংলায় মহিলাদের দেড় হাজার টাকা দেয়, কেন? আমি অধিবেশনে প্রশ্ন তুলেছি।'