
বাজেট পেশের দিনেই মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূল কংগ্রেসের কফিনে আরও একটি পেরেক পুঁতে দিলেন তাঁরই অনুগামীরা। যাদের কাণ্ডারী সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে জিতেই তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন কালীঘাটের বিরুদ্ধে। প্রথম দিকে সঙ্গী ছিলেন শুধুমাত্র সন্দীপন সাহা। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে ঋতব্রতর শিবিরে। ঋতব্রত শিবিরের শক্তি এতোটাই বেড়েছে যে বর্তমানে তাঁরা মমতা-অভিষেককে তাদের দলীয় পোস্টার থেকে আউট করে দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে বাদ দিয়েই তৈরি করে ফেলেছেন তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতি। এবার তৃণমূলের ঘরের চাবি হাতে নেওয়ার অপেক্ষা মাত্র।
সোমবার জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের পরই মঙ্গলবার আরও একধাপ এগিয়ে গেল ঋতব্রতর শিবির। বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই তাঁরা যাবেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও দফতরে। সোমবার নিউটাউনের বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকের পরই নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সেন দাবি করে একটি তালিকা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দফতরে।
সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল। সেখানে শুধুমাত্র জয়ী বিধায়করাই ছিলেন না, ছিলেন পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরাও সেই বৈঠকেই হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে সর্বভারতীয় তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়। ঋতব্রতরা ৩০ জনের একটি কর্মসমিতি গঠনকরেছে। যা মমতার তৈরি তৃণমূলের পরিবর্তে নিজেদেরই আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে।
দলের অন্দরে বিদ্রোহ দেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতিতে ব্যাপক রদবদল করেন। বিদ্রোহীদের ছেঁটে ফেলেন। তারপর থেকেই দেখা যাচ্ছে মমতার পরিবর্তে ঋতব্রতর শিবিরে ভিড় ক্রমশই বাড়তে শুরু করেছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথাই এরা 'ভালো তৃণমূল।' যাইহোক মমতার তালিকা থেকে বাদ পড়া ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে ঋতব্রতর শিবিরে। সেখানে নাম লেখানোর চেষ্টা করছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অর্থাৎ মমতার স্নেহের বালুও।
দলের নতুন কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সোমবারের তারিখ লেখা রয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবারই দিল্লির নির্বাচন সদনে এই তালিকা পাঠিয়েছেন মমতা। দলের রাশ যে তাঁর হাতেই রয়েছে, এই বার্তা দিতেই মমতার এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসমিতির যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে চেয়ারপার্সেন হিসেবে রয়েছেন মমতা। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রত শিবির সম্পুর্কে কুণাল ঘোষ বললেন, "ওঁদের কোনও এক্তিয়ার নেই।" ঋতব্রত পাল্টা বললেন, "কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশন নন।" — দুজনেই ঠিক বলেছেন। সমস্যা হলো নির্বাচন কমিশনও এখন ঠিক করতে পারছে না, আসল তৃণমূল কোনটা। আপাতত অপেক্ষা — সিইও অফিসে গিয়ে কী নথি জমা পড়ে, নির্বাচন কমিশন কার তালিকায় সিল দেয়।
"আসল ঘাস-ফুল" কার হাতে থাকবে — সেটা জানতে একটু অপেক্ষা করতেই হবে।