
আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির কারণে ইডি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শেক্সপিয়র সরণি থানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র অভিযানের পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমেপ্লেক্স থানায়ও বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার তথ্য এখনও সরকারিভাবে জানানো হয়নি। এদিকে, ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের আট সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন,শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, প্রতিমা মণ্ডল,কীর্তি আজাদ। তাঁদের হাতে ছিল পোস্টার। তাঁরা সেখানে অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন। যদিও দিল্লি পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় ও আটক করে। আটক তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্র বলেন, 'আমরা বিজেপিকে পরাজিত করব। একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশ কেমন আচরণ করছে, তা দেশ দেখছে।' টিএমসি সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেন, ‘এখানে সাংসদদের সঙ্গে কী ঘটছে, তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।’ শতাব্দী রায় বলেন, 'তারা গতকাল ইডি-র দল পাঠিয়েছে এবং নির্বাচনের সময় তাদের সবকিছু মনে পড়ে। তারা শুধু জেতার জন্য নির্বাচনের সময় ইডি, সিবিআই-এর দল পাঠায়, কিন্তু তারা নির্বাচনে জিতবে না।' টিএমসি সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেছেন, ‘ইডি ভুল পদ্ধতিতে অভিযান চালিয়েছে এবং এটি অগণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে জেতার একটি প্রচেষ্টা। বিজেপি এই উপায়ে নির্বাচনে জিততে পারবে না।’
তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-র দফতরে বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযান চালানো হয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও। ওই তল্লাশির মধ্যেই দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে। সেখানে এই তল্লাশি অভিযানকে ক্রাইম বলে অভিহিত করেন। মমতা সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক কৌশল ছিনতাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের নেপথ্যে বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, 'আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে রেড করি তাহলে কেমন হবে?' এরপর সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরেও যান মমতা। বিকেল ৪টের পরে প্রতীক জৈন আসা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। মাঝে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইডি, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বাদ যাননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখান থেকেই দলীয় নেতৃত্বকে জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিলের নির্দেশ দেন। নেত্রীর নির্দেশ মেনে প্রায় প্রতিটি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল করেছেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
কোন কোন অভিযোগ দায়ের
পরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দায়ের করা প্রথম মামলাটিতে চুরি, বেআইনিভাবে প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলাটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দুটি মামলাই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এবং কোনও এফআইআরে ইডি-র কোনও নির্দিষ্ট আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে, মামলা ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে চলে গিয়েছে। সব পক্ষই আইনের দ্বারস্থ হয়েছে। শুক্রবার দুটি মামলার শুনানি হতে পারে।
মমতা রাজপথে
I-PAC অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED হানার প্রতিবাদে শুক্রবার রাস্তায় নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হবে হাজরা মোড়ে। ৮বি থেকে মিছিল পৌঁছবে যাদবপুর থানা, এরপর লর্ডস মোড় হয়ে যাবে আনোয়ার শাহ রোডে। সেখান থেকে রবীন্দ্র সরোবর হয়ে রাসবিহারী এবং তারপর হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ হবে এই মিছিল।