
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বর্তমানে পাঞ্জাব ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাব জম্মু-কাশ্মীর সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে পড়ছে। পাশাপাশি উত্তর ভারত ও সংলগ্ন এলাকায় সাব-ট্রপিক্যাল ওয়েস্টারলি জেট স্ট্রিম সক্রিয় রয়েছে। উত্তর হরিয়ানা সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি অক্ষরেখা আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। যারফলে বছরের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দক্ষিণবঙ্গে সামান্য তাপমাত্রা বাড়লেও একাধিক জেলায় ঘন কুয়াশার দাপট বাড়বে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্ষবরণের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কুয়াশার দাপট বাড়বে। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস। শনিবারও কুয়াশার প্রভাব থাকবে পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায়।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। শুক্রবার ও শনিবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এরপর দু-তিন দিন আবহাওয়া প্রায় একই রকম থাকবে। উইকেন্ডে কলকাতায় তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি ফের পারদ পতনের আশঙ্কাও রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শনিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের উঁচু পার্বত্য এলাকায় শনিবারের মধ্যে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সান্দাকফু, ঘুম, ধোত্রে, মানেভঞ্জন ও চটকপুরের মতো এলাকায় তুষারপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা দার্জিলিংয়ের হাই অলটিটিউড অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করার ফলে এই বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং ও সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় তাপমাত্রা থাকবে ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি এবং মালদা ও সংলগ্ন নিচের জেলাগুলিতে ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে পারদ।
কলকাতায় জাঁকিয়ে শীতের আমেজ বজায় রয়েছে। সকালে হালকা কুয়াশা থাকলেও পরে আকাশ পরিষ্কার থাকবে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও পারদ এখনও ১১ ডিগ্রির ঘরেই। আবহাওয়া মূলত শুষ্ক, বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। সকালে কুয়াশার প্রভাব আরও বাড়তে পারে। পরবর্তী দু-তিন দিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং উইকেন্ডে কলকাতায় তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। আজ কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০.১ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০ থেকে ৯৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লি, পাঞ্জাব, চন্ডিগড়, হরিয়ানা ও বিহারে শীতল দিনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে ঘন কুয়াশার চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও চন্ডিগড়েও ঘন কুয়াশার দাপট বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকবে। সকালে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার সম্ভাবনা।