WB Municipality Scam News: পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে এবার আদালতে চার্জশিট জমা সিবিআইয়ের। চার্জশিটে কাদের নামের উল্লেখ রয়েছে? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

West Bengal News: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার শুক্রবার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। আলিপুর আদালতে রাজ্যের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে অভিযুক্তের তালিকায় নাম রয়েছে ধৃত অয়ন শীলের সংস্থা এবিএস ইনফোজোন এবং আমলা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চার্জশিটে কী অভিযোগ উঠেছে?

শুক্রবার আদাবলতে সিবিআই-এর পেশ করা চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে যে- উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর সহ রাজ্যের মোট আটটি পৌরসভায় ৬০০-রও বেশি বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। আর এই বেআইনি নিয়োগের সময় ডিএলবি বিভাগের ডিরেক্টর ছিলেন আইএএস জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়।

স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়েই রাজ্যে পুর নিয়োগে দুর্নীতির খোঁজ পায় সিবিআই। তদন্ত নেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চুঁচুড়া থেকে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে গ্রেফতার করে। এরপর তার সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রচুর ওএমআর শিট এবং উত্তরপত্র। পুর নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআরশিট তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল অয়ন শীলের সংস্থা। সেই সূত্র ধরেই এই মামলায় একের পর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

২০২৪ সালে এই মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। এই নিয়োগকে ঘিরে কীভাবে বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে, কীভাবে চাকরি দেওয়া হত, সমস্ত কিছুই উল্লেখ করা হয়েছিল সেই চার্জশিটে। সেখানে এই দাবিও করা হয়েছিল যে, অয়ন শীলের দুই এজেন্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। 

চাকরিপ্রাপকদের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে কমিশন নিয়েছিল ওই দুই ব্যক্তি। চাটশিটে এও দাবি করা হয়েছিল অয়ন শীলের মাধ্যমে কলকাতা সহ রাজ্যের ১৬টি পৌরসভায় অনেকেই বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিল। সেখানে শমীক চৌধুরী নামে এক এজেন্টের নামও উল্লেখ করেছিল সিবিআই।

সিবিআই-এর দাবি, এই শমীক চৌধুরীর মাধ্যমে ১০-১২ জন রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিল। দেবেশ চক্রবর্তী ওরফে কানুদা নামে আরও এক এজেন্টের মাধ্যমে ১৪ জন চাকরি পেয়েছিল বলে দাবি করে সিবিআই। সেই সময় সিবিআই দাবি করেছিল, রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভায় প্রায় ১৮২৯ জন বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিল।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দক্ষিণ দমদম পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচুগোপাল রায়ের বিরুদ্ধে আগেই চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে রাজ্যের বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছিল।

 সেই কারণেই নতুন করে চার্জশিট দাখিল করার প্রস্তুতি শুরু করে সিবিআই। এই সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য উঠে এসেছিল, তা তদন্তের স্বার্থে চার্জশিটে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে সিবিআই। সেই কারণেই রাজ্যে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন করে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিল তারা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।