
Rajganj SIR Hearing News: রাজগঞ্জে আবারও সামনে এল এসআইআর হেয়ারিং সংক্রান্ত অমানবিক চিত্র। অভিযোগ, ১৮/৯৪ নম্বর বুথের ভোটার ৮৮ বছরের এক বৃদ্ধ ও তাঁর ৮৩ বছরের স্ত্রীকে হেয়ারিংয়ে হাজির হতে বাধ্য করা হলো। কনকনে শীতের মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে টোটোতে চেপে তাঁরা উপস্থিত হন রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে। অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিএলও (BLO)-কে জানানো সত্ত্বেও কোনও কাজই হয়নি।
পরিবারের দাবি, বাবা-মা দু’জনেই বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। পড়ে যাওয়ার পর থেকে হাঁটাচলা প্রায় করতে পারেন না। এমন অবস্থাতেও তাঁদের হেয়ারিংয়ে নিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে হেয়ারিংয়ে ডাকা না হলেও শুধুমাত্র শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা-মাকেই হাজির হতে হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের জয়েন্ট বিডিও সৌরভ কান্তি মন্ডল বলেন, ‘’বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম তৈরি করা হয়েছে। সেই ফর্মে সই করে জমা পড়লে আমরা বাড়ি গিয়েই হেয়ারিং করতাম। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যদি বিএলও কোনও তথ্য না দিয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।''
তবে পরিবারের বক্তব্য, বারবার জানানো সত্ত্বেও বিএলও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেননি। ফলে প্রশাসনিক গাফিলতির খেসারত দিতে হয়েছে প্রবীণ দম্পতিকেই।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশনের বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন তা বাস্তবে প্রয়োগ হচ্ছে না? তথ্য না পৌঁছনোর দায় কার, আর সেই দায়ের বোঝা কেন বইতে হচ্ছে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদেরই?
শুধু তাই নয়, একই অভিযোগ উঠেছে নদীয়া জেলাতেও। নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এসআইআর শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য ৭০ ঊর্ধ্ব অপারেশন করা বৃদ্ধা ভোটার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, অসুস্থ ও ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়স্ক ভোটারদের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে আসার প্রয়োজন নেই। তাঁদের বাড়িতেই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু শান্তিপুর ব্লক অফিসের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়ে কেন্দ্রে হাজির হন ৭০ বছর ঊর্ধ্ব অপারেশন করা বৃদ্ধা ভোটার রাধিকা মল্লিক। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। তবুও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শুনানিতে উপস্থিত হতে বাধ্য হন তিনি।
রাধিকা মল্লিক জানান, তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা আগে স্থানীয় বিএলও-কে জানানো হয়নি। পাশাপাশি, বাড়িতে বসেই শুনানি হবে—এমন কোনো বার্তাও বিএলও-র পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি। সেই কারণেই শুনানিতে আসতে হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
সব শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করে অসুস্থ শরীর নিয়েই বাড়ির পথে রওনা দেন ওই বৃদ্ধা ভোটার। এই ঘটনায় শান্তিপুর ব্লকে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।