একই দিনে রাজভবনে বিজেপি নেতা ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। দেখা করেন রাজ্যপালের সঙ্গে। নির্বাচনে অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি রাজ্যপালের।
শনিবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে পৃথক পৃথক ভাবে দেখা করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। সূত্রের খবর পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোনও রকম অশান্ত বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবার দুপুরে সুকান্ত মজুমদার রাজ্যপালের কাছে যান। তাঁর সাক্ষাতের কিছুক্ষণ পরেই রাজভবনে যান রাজীব সিংহ।
বিজেপির অভিযোগ
পঞ্চায়েত নির্রাবচনের আগেই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্যরাজনীতি। গোটা রাজ্যেই বিক্ষিপ্ত আশান্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাজভবনে গিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুঁকে আসেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে রাজ্যে অশান্তি ততই বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করানোর পক্ষেও দাবি তুলেছেন তিনি।
রাজীব সিংহ রাজভবনে
সুকান্ত মজুমদারের রাজভবন থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে যান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর রাজ্যপাল পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান। রাজ্যে পর্যাপ্ত বাহিনী রয়েছে কিনা তাও জানতে পারেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন করেন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার সিদ্ধান্ত যে আদালতের বিচারাধীন তা জানিয়ে দেন রাজীব সিংহ। পাশাপাশি রাজ্যপাল মিছিল মিটিং ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে ভিডিও গ্রাফি করার পরানর্শও দেন বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যপালের বক্তব্য
শনিবার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যপাল জানান, পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোনও রকম আশান্ত বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেব, রাজ্য অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে নির্দেশ দিয়েছেন। কোনও আশান্তি যাতে না হয় তারজন্য প্রথম থেকেই সক্রিয় থাকতেও বলা হয়েছে। রাজ্যপাল রাজীব সিংহের সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা প্রকাশ্যে জানালেও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী জেলা পরিষদে তৃণমূল কংগ্রেসের ধারে কাছে কেউ নেই। ৮২৫টি জেলা পরিষদের আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ৫৯০টি। অনেক অনেক পিছিয়ে অর্থাৎ ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। ৬টি আসন পেয়েছ তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস। একটা যে যে বামেরা ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় রাজ করতে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের নাম ও নিশান ছিল না। তবে এই রাজ্যে দলবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পরবর্তীকালে তৃণমূলের আসন সংখ্যা আরও বেড়েছে।
পঞ্চায়েত সমিতি রাজ্যের ৯২১৭টি পঞ্চায়েত সমিতির আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ৪৯৭৪টি আসন। বিজেপির ৭৬০ আর বামেদের ১১৭টি আসন। কংগ্রেসের দখলে ছিল ১৩৩টি আসন। প্রায়ই একই ছবি গ্রামসভার ক্ষেত্রে রাড্যে ৪৮৬৫০টি গ্রাম সভার আসনের মধ্যে ২১২৬৯টি আসনই তৃণমূলের দখলে। বিজেপি ৫৭৭৬টি আসন পেয়ে দ্বিতীয়। সিপিআইএর জথলে ৩৪, সিপিআই(এম)এর দখলে ১৪৮৬টি আসন। কংগ্রেসের দখলে ছিল ১০৬৫টি আসন। যদিও পরবর্তীকালে দলবদলের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
এই তথ্য পশ্চিমবঙ্গ বই থেকে।
আরও পড়ুনঃ
পঞ্চায়েতে 'বায়রন মডেল'-এ আস্থা তৃণমূলের? ভোটের আগেই দলবদল নিয়ে বড় ইঙ্গিত কুণালের
অনুব্রত মণ্ডল বিহীন পঞ্চায়েত নির্বাচন বীরভূমে, কেষ্টর - ক্যারিশ্মা বাদে কতটা সফল হবে তৃণমূল কংগ্রেস
ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর তুলনা, দাড়ি নিয়ে কটাক্ষ বিজেপি নেতার