
রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে। সোমবার ভোট গণনার দিন বিকেলেই ফল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরেই সন্ধ্যের দিকে নিজের গণনাকেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়ার স্কুলে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে কিছুক্ষণ থেকেই বেরিয়ে যান। আজ , মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। তিনি নির্বাচনে হারেননি। তাই তিনি পদ ছাড়ছেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ না করলে কী হবে?
রীতি অনুযায়ী বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে হারের পর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল আর প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে পদত্যাগ বা ইস্তফা পত্রদেন। সেটাই প্রচলিত রীতি। ২০১১ সালে পালা বদলের সময় ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ প্রকাশের আগেই রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বেলা ১টার সময় রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর উত্তরসুরী সম্পূর্ণ অন্যপথেই হাঁটলেন। সোমবার ফল প্রকাশের সন্ধ্যে যখন সকলেই প্রায় ধরেই নিয়েছিল তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে চলে যাবেন রাজ্যপালের কাছে। কিন্তু তা না করে তাঁর কনভয় চলে যায় কালীঘাটের বাড়িতে। যাইহোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না করায় কী কী হতে পারে?
দল হেরে যাওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে কী হতে পারে- তাই নিয়ে সংবিধানে কোনও কিছু বলা নেই। এর আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কথায় হেরে যাওয়ার পরেও ইস্তফা না দেওয়ার নজির এই দেশে নেই। তাই মমতা ইস্তফা না দিলে একটি নজির তৈরি হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে, বৃহস্পতিবার। সেই দিন পর্যন্ত ইস্তফা না দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে সরানো যা যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যগরিষ্ঠতা না থাকলে রাজ্যপাল বরখাস্ত করতে পারেন। তবে তার আগে ফ্লোরটেস্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য চাপ দিতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পর ইস্তফা না দিলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। রাজ্যপালের নির্দেশ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.