কালীঘাট তৃণমূল বনাম ঋতব্রত তৃণমূল— কারা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, এই প্রশ্ন এখন বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চায় বিষয়। দুই শিবিরের এই টানাপোড়েনের চূড়ান্ত মীমাংসার ভার গিয়ে পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাঁধে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
210
কমিশনের স্পষ্ট বার্তা: বিষয়টি সাংবিধানিক
শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলীয় পরিচয় সংক্রান্ত এই বিরোধ একটি সাংবিধানিক বিষয়। আইনে যা নির্দিষ্ট করা আছে, ঠিক সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
310
কাগজপত্র জমার হিসেব এখনও অসম্পূর্ণ
শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীঘাট তৃণমূলের অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের তরফে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা পড়লেও ঋতব্রত শিবিরের তরফে এখনও সম্পূর্ণ নথি জমা দেওয়া হয়নি। ফলে দু’পক্ষের সব নথি হাতে না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট (IIIDEM)-এ আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়— আসল তৃণমূল কারা? জবাবে তিনি জানান, কে আসল আর কে ভুয়ো, তা তিনি জানেন না, তবে সংবিধান মেনেই কাজ করবে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ইঙ্গিত সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কে আসল তৃণমূল কংগ্রেস।
510
৩৬টি রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাংবাদিকদের সামনে বিবৃতি
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সাংবাদিক বৈঠকে দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ফলে তৃণমূলের এই আভ্যন্তরীণ সংকট যে জাতীয় স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তা এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
610
বিধানসভা ভোটের ভরাডুবির পরই ভাঙন শুরু
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পরই তৃণমূলে এক ভাঙন দেখা দিতে থাকে। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
710
পরাজিত প্রার্থীদেরও বিদ্রোহী শিবিরে ঝোঁক
শুধু জয়ী বিধায়করাই নন, ভোটে পরাজিত হওয়া তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যেও একটা বড় অংশ বিদ্রোহী শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন বলে সূত্রের খবর। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বঙ্গবাসীর কথায় তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতাই দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত। আর সেই কারণেই ইডি-সিবিআই-এর হাত থেকে বাঁচতেই শাসক শিবিরে গিয়ে ভিড়ছে।
810
রাজ্যসভায় চার সাংসদের পদত্যাগ
দিল্লিতে রাজ্যসভার চারজন তৃণমূল সাংসদ ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিতও হয়ে গিয়েছেন, যা তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। তবে তারপরেও তৃণমূলে ভাঙন অধ্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি একটি অধিবেশনে যোগ না দিয়েও ইস্তফা দিয়েছেন কোয়েল মল্লিক। তিনিও যেতে পারেন বিজেপিতে।
910
লোকসভাতেও ভাঙনের চোরাস্রোত
শুধু রাজ্যসভা নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, বাকি বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদরাও সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।
1010
কার হাতে থাকবে দলের রাশ, বাড়ছে টানাপোড়েন
এই জটিল পরিস্থিতিতে তৃণমূলের আসল নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাদের স্পষ্ট জবাব— দু’পক্ষের কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পরেই আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এর অন্যথা হবে না।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.