ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলছে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অষ্টম রাউন্ডের গণনা সম্পূর্ণ। বিজেপি-জেভিএম (পি) জোট সরকারের পতনের ছবিটা মোটামুটিভাবে পরিষ্কার। অন্যদিকে মহাজোট অর্থাৎ কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোটের সরকার গড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী। মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হেমন্ত সোরেন চূড়ান্ত ফলাফল আসার অপেক্ষা না করেই সিএএ-এনআরসি-কেই বিজেপির হারের কারণ হিসেবে দুষলেন।

দুমকা এবং বারাহাইত - দুটি আসন থেকেই এই নির্বাচনে লড়ছেন জেএমএম প্রধান হেমন্ত সোরেন। তাঁর নেতৃত্বেই এবার ভোটে লড়েছে মহাজোট। দুমকা এবং বারাহাইত - দুটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি। বারহাইত-এ তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত। দুমকায় কখনও কখনও পিছিয়ে পড়ছেন। তবে মহাজোট জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছে।

এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার দিয়েছেন তিনি। নাগরিক আইন ও দেশব্যপী নাগরিকপঞ্জী করার প্রস্তাবকে তিনি বিমুদ্রাকরণ বা নোটবন্দির সময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এদিন হেমন্ত সোরেন বলেন, এবার কি ভারতীয়দের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্যও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ রয়েছেন দিনমজুর ও ভূমিহীন কৃষক। তাদের কাছে উত্তরাধিকারের দলিল থাকার প্রত্যাশা করাই অনুচিত ও অর্থহীন।

তিনি মোদী সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, দরিদ্ররা রুটি-রুজির জন্য কাজ খুঁজবেন না বসে বসে  উত্তরাধিকারের দলিল খুঁজবেন? বিজেপি-কে ঝাড়খণ্ডের জনগণ জবাব দিয়ে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আগামী দিনে এরকম জবাব আরও পেতে হবে বিজেপি-কে।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এই মুহূর্তে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে মাত্র ২৪টি আসনে, সহযোগী দল জেভিএম (পি) ৩টি-তে। এমনকী অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস-ও। আর মহাজোট এগিয়ে রয়েছে ৪৬টি (জেএমএম ২৯, কংগ্রেস ১৪ এবং আরজেডি ৩) আসনে। সরকার গঠনের ম্যাজিক সংখ্যা ৪১।