উত্তরপ্রদেশ সরকার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের ভূমিহীন কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য একটি বড় ভূমি সংস্কার কর্মসূচি এনেছে। এতে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পরিকল্পনা অনুযায়ী যোগ্য পরিবারগুলিকে কৃষি জমি এবং আবাসন প্লট বরাদ্দ করা হচ্ছে। 

উত্তরপ্রদেশ সরকার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী গ্রামীণ এবং ভূমিহীন কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য বড় আকারের ভূমি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। যা উত্তরপ্রদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারণা সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর অধীনে, রাজ্যের রাজস্ব বিভাগ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভূমিহীন, স্বল্প জমির মালিক কৃষকদের কৃষি জমি এবং আবাসন প্লট বরাদ্দ করে। এই প্রক্রিয়ায়, বিভাগটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় সত্তর শতাংশ অর্জন করেছে। এর ফলে ভূমিহীন কৃষকরা শুধু আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগই পায়নি, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। যা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ভূমিহীন কৃষকদের ১৫১.৮০ হেক্টর কৃষি জমি বরাদ্দ

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশনায়, রাজ্যে পরিচালিত ভূমি সংস্কার কর্মসূচির অধীনে ভূমিহীন বা স্বল্প জমির মালিক গ্রামবাসীদের গ্রামসভার পক্ষ থেকে জমি বরাদ্দ করা হয়। এর আওতায়, ২০২৫-২৬ বর্ষে রাজস্ব বিভাগের পক্ষ থেকে ১০৭৬ জন বরাদ্দ প্রাপককে ১৫১.৮০ হেক্টর কৃষি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৬৯.১৬ শতাংশ। রাজস্ব বিভাগের এই কাজের ফলে রাজ্যের ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা চাষের জন্য উর্বর জমি পেয়েছে। এতে শুধু তাদের জীবনযাত্রায় স্থিতিশীলতা আসবে না, রাজ্যের মোট কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক বৃদ্ধি ঘটবে।

রাজস্ব বিভাগ ৩৭৫৪টি পরিবারকে আবাসন প্লট বরাদ্দ করেছে

রাজস্ব বিভাগ গ্রামে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের আবাসন তৈরির জন্যও জমি সরবরাহ করে। এই প্রক্রিয়ায়, বিভাগটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩৭৫৪টি পরিবারকে আবাসন প্লট বরাদ্দ করেছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৭০.৯০ শতাংশ। আবাসন প্লট পাওয়ায় এই পরিবারগুলো শুধু মাথার ওপর ছাদই পায়নি, এর সরাসরি প্রভাব তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির আকারেও দেখা গিয়েছে। রাজ্য সরকারের এই কর্মসূচিতে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাজস্ব বিভাগের ভূমি সংস্কার কর্মসূচির অধীনে কৃষি জমি এবং আবাসন প্লট সরবরাহ করা রাজ্য সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে রাজ্যে শুধু জমির ন্যায়সঙ্গত বণ্টনই নিশ্চিত হয় না, গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও বৃদ্ধি পাচ্ছে।