৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় বিজেপির লক্ষ্য ছিল ৭৫ আসনে জয়। কিন্তু বেশ কয়েক রাউন্ড ভোট গণনার পর এই মুহূর্তে বিজেপির একক সংখ্যা গরীষ্ঠতা পাওয়াটাই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। এই রাজ্য়ে মূল লড়াইটা এই দুই পক্ষের মধ্য়েই হবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সকলকে চমকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে দুশ্য়ন্ত চৌটালার জননায়ক জনতা পার্টি। ভোট গণনার প্রবণতা বলছে হরিয়ানায় এইবার ত্রিশঙ্কু হতে চলেছে বিঘধানসভা। আর সেই ক্ষেত্রে সরকার গঠনের চাবি থাকবে চাবি চিহ্ন নিয়ে নির্বাচনে লড়া জননায়ক জনতা পার্টি বা জেজেপি-র হাতেই।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শেষ খবর অনুযায়ী হরিয়ানায় বিজেপি এগিয়ে ৩৯টি আসনে আর কংগ্রেস এগিয়ে ৩৩ আসনে। আর জেজেপি ইতিমধ্যেই ৪টি আসনে জয়ী হয়েছে। আরও ৬টি আসনে এগিয়ে আছে। এছাড়া লোকদল এগিয়ে মাত্র ১টি আসনে। ১টি আসনে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী, আরও ৫টিতে এগিয়ে নির্দলরা।

ফলে অনেকটাই ২০১৮ সালের কর্নাটক বিধানভার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হরিয়ানায়। শেষ পর্যন্ত বিজেপি একক সংখ্যা গরীষ্ঠতা পেলে আর কোনও অঙ্ক কষতে হবে না। কিন্তু যদি তা না হয়, তখন বিশাল ভূমিকা গ্রহণ করবে জেজেপি। কর্নাটকে যেমন অনেক কম আসন নিয়েও জোটের বড় শরিক কংগ্রেসের বদলে জেডিইউ নেতা কুমারস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, হরিয়ানাতেও দুশ্যন্ত চৌটালা সেই দিকেই এগোচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের কাছে সেই দাবি জানিয়ে রেখেছেন বলেই খবর।

তবে সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই কথা স্বীকার করেননি তিনি। জানিয়েছেন চূড়ান্ত ফলাফল বের হওয়ার পরই এইসব আলাপ আলোচনা শুরু হবে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও তাঁকে হাত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এর জন্য বিজেপি ভরসা করছে শরিক দল শিরোমণি অকালি দলের নেতা প্রকাশ সিং বাদল ও সুখবীর সিং বাদলের উপর।

এদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভূপিন্দর সিং হুডা এর মধ্যেই হরিয়ানায় কর্নাটকের মতো করেই বিজেপি বিরোধী সব দল-কে এক জায়গায় করে সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্রবীন নেতা বলেছেন, সময় এসেছে কংগ্রেস, জেজেপি, লোকদল, নির্দল প্রার্থী সবাই এক হয়ে একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করার। এই রকম জোট গড়া গেলে জোটের শরিক সবাই সমান গুরুত্ব পাবে বলেও আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন তিনি।

তাঁর পুত্র তথা হরিয়ানা কংগ্রেসের আরেক বড় নেতা ডিএস হুডা জানিয়েছেন, মানুষ যে খট্টর সরকারকে আর চাইছে না তা ভোটের ফলের প্রবণতাতেই স্পষ্ট। এই অবস্থায় বিজেপির পক্ষ থেকে নির্দল প্রার্থীদের উপর চাপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, অধিকাংশ নির্দল প্রার্তীই কং শিবিরে আসতে চাইছেন। তিনি আরও বলেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্দলরা কাকে সমর্থন করবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের থাকা উচিত।

তবে নেটিজেনদের কাছে এদিনের নায়ক কিন্তু দুশ্যন্ত চৌটালাই। বিজেপি-কংগ্রেস-কে ফেলে এদিন যাবতীয় কৌতূহলের কেন্দ্রে তিনিই। নেট দুনিয়া ছেয়ে গিয়েছে তাঁকে নিয়ে তৈরি মিম-এ।