বাংলার মতো অসমেও বিধানসভা ভোট আসন্ন। শুক্রবারই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের নির্ঘন্ট। ডবল ইঞ্জিন সরকারই থাকবে, না এনআরসি পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার হাত বদল হবে - সেই দিকেই এখন তাকিয়ে অসমবাসী। ২০১৬ সালের নির্বাচনে কিন্তু, তিনবারের তরুণ গগৈ সরকারের পতন ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছিল বিজেপি। কী ছিল পাঁচ বছর আগের ফল, আসুন দেখে নেওয়া যাক -

অসমে বর্তমানে মোট আসন সংখ্যা ১২৬। আর সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটের প্রয়োজন ৬৪টি আসন। ১৯৫২ সালে প্রথম অসম বিধানসভা থেকে বেশিরভাগ সময়েই উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল জাতীয় কংগ্রেস। শুধুংমাত্র ১৯৮৫ এবং ১৯৯৬ - এই দুই বার ক্ষমতা দখল করেছিল অসম গন পরিষদ বা অগপ। ২০০১ সালে অগপ সরকারের পতন ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরেছিল কংগ্রেস। ৬ বারের লোকসভার সাংসদ তরুণ গগৈকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিল তারা। তারপর থেকে পর পর তিনবার তিনি রাজ্যবাসীর আস্থা জিতেছিলেন।

২০১৬ সালে মোদী হাওয়ায় প্রায় উড়ে যায় কংগ্রেস। ২০১১ সালে মাত্র ৫টি আসন জিতেছিল বিজেপি। ৫ বছর পর সেখান থেকে তারা ৬০টি আসন জিতে নিয়েছিল। আর কংগ্রেস ৭৮টি আসন থেকে নেমে আসে মাত্র ২৬টিতে। এনডিএ-তে যোগ দিয়েছিল অসম গণ পরিষদ এবং বোরোল্যান্ড পিপলস পার্টি-ও। তারা জিতেছিল যথাক্রমে ১৪ এবং ১২টি আসন। সব মিলিয়ে ৮৬টি আসন জিতে সরকার গঠন করেছিল এনডিএ। মুখ্যমন্ত্রী হন সর্বানন্দ সোনওয়াল।  

নির্বাচনের আগে শাসক দল বিজেপি, রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার (কেন্দ্র ও রাজ্যে এক দলের সরকার) থাকার সুযোগ সুবিধা তুলে ধরছে। তবে নির্বাচনী জোটে কিছু অদল-বদল ঘটেছে। এনডিএ থেকে সরে এসে পৃথকভাবে লড়াই করছে বোরোল্যান্ড পিপলস পার্টি। অন্যদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (AIUDF) এবং বাম দলগুলি। জোট বেঁধেছে অখিল গগৈ-এর রাইজোর দল এবং অসম জাতীয় পরিষদও।