এবার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া হল কেন্দ্রীয় সরকার। ওটিট প্ল্যাটফর্ম, সোশ্য়াল মিডিয়া, ডিজিটাল নিউজ সাইটিগুলির জন্য একাধিক নতুন নিয়ম আনছে মোদী সরকার। এই কথা ঘোষণা করেছেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শংকর ও প্রকাশ জাভড়েকর। নেটফ্লিক্স-অ্যামাজনের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে ফেসবুক-টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি সব প্লাটফর্মগুলির উদ্দেশ্যে গাইডলাইন জারি করল ভারত সরকার। একইসঙ্গে ডিজিটাল মিডিয়াকেও ইলেকট্রিক মিডিয়াগুলির মতো সেলফ রেগুলেশন করার কথা বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়কর জানিয়েছেন, দেশে কটি ডিজিটাল নিউজ মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তা সরকার জানে না। এক্ষেত্রে সরকার তাঁদের সঙ্গে কথা বলবে কীভাবে? তাই সরকার এই ধরনের প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য জানতে চাইছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য অফিসার মোতায়েন করতে হবে। সেখানে যাবতীয় অভিযোগ জমা পড়বে। প্রতি মাসে জমা হওয়া অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া মহিলাদের আপত্তিজনক ছবি-যৌন উসকানিমূলক কোনও ছবি বা তথ্য নিয়ে অভিযোগ উঠলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই ছবি বা তথ্য সরিয়ে ফেলতে হবে। 

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ত্রিস্তরীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ডিজিটাল মিডিয়াগুলিকে এখনই সরকারিভাবে নথিভুক্তিকরণ করা হচ্ছে না। তবে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য চাইবে সরকার। সেই তথ্য জানাতে বাধ্য মিডিয়াগুলি। বলা হয়েছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় একটি স্বতন্ত্র কমিটি তৈরি করবে। তার মাথায় থাকবেন সুপ্রিম কোর্ট অথবা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা সমমর্যাদার কোনও বিচারপতি। ডিজিটাল মিডিয়া বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে এই কমিটি সেদিকে নজর রাখবে।

রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা বিষয় নিয়ে গাইডলাইন তৈরি করতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে ভারত সরকার এ সম্পর্কে গাইডলাইন তৈরি করেছে। আরও জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ব্যবহারকারীদের যাচাই করা উচিত, এখনই সরকার এতে হস্তক্ষেপ করবে না, তবে প্ল্যাটফর্মগুলির এবিষয়ে খেয়াল রাখা উচিৎ। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে ভারতে ব্যবসা করার স্বাগত জানানো হয়েছে। সরকার আলোচনার জন্য তৈরি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াকে ভুল ভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে ফোরাম থাকা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে তা ৩ মাসের মধ্যে চালু করা হবে।