১৯৯৯ সালে কান্দাহারে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাই-এর সময় যাত্রীদের প্রাণরক্ষা করতে তাঁকেই পণবন্দি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তত্কালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার, কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েই তৃণমূল নেত্রীকে বড়াবরের লড়াকু নেত্রী বলে অভিহিত করলেন ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ ও বিদেশ মন্ত্রী যশবন্ত সিং। আর সেই লড়াকু মমতার পরিচয় দিতে গিয়েই কান্দাহারের বিমান ছিনতাই-এর প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।

২০১৮ সালে বিজেপি ছেড়ে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন যশবন্ত সিনহা। কিন্তু সারা দেশে 'মোদী শাসিত বিজেপির উত্থান আটকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা দরকার', বলে
তিনি তণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। দলে যোগ দিয়েই দলীয় নেত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর অধীনে আমি তাঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি প্রথমদিন থেকেই একজন লড়াকু এবং তিনি এখনও তিনি একজন লড়াকু'।

এই প্রসঙ্গেই কান্দাহারে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান হাইজ্যাকের ঘটনার কথা বলেন যশবন্ত। সেইসময় মমতা, বাজপেয়ী সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন। দিল্লি যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকে মাঝ আকাশে ছিনতাই করে জঙ্গিরা প্রথমে অমৃতসরে ও পরে কান্দাহারে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের দাবি না মানলে এক এক করে পণবন্দি যাত্রীদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল জঙ্গিরা। মন্ত্রিসভায় এই নিয়ে আলোচনার সময়, ভারতীয়দের যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে নিজেকেই পণবন্দি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই জানিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

তবে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পণবন্দি হতে হয়নি। মোস্তাক আহমেদ জারগার, আহমেদ ওমর সইদ শেখ, এবং মাসুদ আজহার - নামে তিন জঙ্গি নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এরমধ্যে সইদ শেখ ও মাসুদ আজহার পরবর্তীকালে সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল-কে হত্যা এবং ২০০৮ সালের মুম্বইয়ের সন্ত্রাসী হামলার মতো বড় সন্ত্রাসবাদি কর্মকাণ্ড পপরিচালনা করেছে।