মৃত্যু বলতে বোঝায় জীবনের সমাপ্তি। জীব বিজ্ঞানের ভাষায়, প্রাণ আছে এমন কোনও জীবের জীবনের সমাপ্তিকে মৃত্যু বলে। সনাতন হিন্দু ধর্ম মতে, কোনও প্রানীর মৃত্যুর পরেই প্রথম যিনি দেখা দেন তিনি হলেন এক দেবতা। সারা জীবনের পাপ-পূণ্যের হিসেব মেলান তিনি। আর তাঁর কষা হিসাব থেকেই অনুমোদিত হয় স্বর্গ ও নরকে থাকার নিয়ম।

আরও পড়ুন- শনিবার সারাদিন কেমন কাটবে আপনার, দেখে নিন রাশিফল

এই দেবতা হলেন চিত্রগুপ্ত। পুরাণ কাহিনি অনুসারে, যমরাজের সভার প্রতি মুহূর্তে তিনি হিসেব রাখেন পাপ-পূণ্যের। বাংলায় না হলেও যমরাজের সভার এই দেবতাও পূজিত হন। শুনে অবাক লাগলেও বিষয়টি একেবারে খাঁটি সত্য। বাংলায় না হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকী নেপালেও পূজিত হন এই দেবতা। এই চিত্রগুপ্ত হলেন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার সন্তান। 

আরও পড়ুন- ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে, বাস্তুর এই নিয়ম মেনেই ঘটতে পারে ঋণ মুক্তি .

পুরান মতে, স্বয়ং ব্রহ্মাই যমরাজকে দ্বায়িত্ব দেন পরলোকের। মানব জনমের পাপ-পূণ্যের হিসেব দেখে স্বর্গ বা নরক বাস স্থির করার দ্বায়িত্ব যম রাজের। একা যমরাজ এই দায়িত্ব সামলাতে বিপন্ন বোধ করায় তিনি আবারও সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার শ্মরনাপন্ন হন, এবং বিকল্প কিছু ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ করেন। সেই সময় ব্রহ্মার কায়া থেকে উদ্ভুত হয় এক দেবতা, ইনিই হলেন চিত্রগুপ্ত। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার কায়া থেকে সৃষ্টি হয়েছেন চিত্রগুপ্ত, এর জন্যই তাঁর সন্তানেরা কায়স্থ হিসেবে পরিচিতি পান। ব্রহ্মা চিত্রগুপ্তকে পাপ-পুণ্যের হিসেব রাখার কাজে নিয়োজিত করেন।

এই দেবতার পুজো বিশেষত দোয়াত-কলম নামেও পরিচিত। তাই এই পুজোর প্রধাণ উপকরণ দোয়াত-কলম, সেই সঙ্গে সুপুরি, মধু, আদা, চিনি, গুড় ও মধু। সেই সঙ্গে এই পুজোয় লাগে চন্দন, চিনি, কাঁচা হলুদ,ফুল ও সিঁদুর। মানব জীবনের পাপ থেকে মুক্তি পেতে পাশাপাশি মৃত্যুর পর স্বর্গলাভের জন্যই এই দেবতাকে প্রসন্ন করা হয়।