জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রয়োগসূত্রগুলি কেবল সম্ভাবনা নির্দেশ করে, কিন্তু কোন নিশ্চিত ঘটনার কথা বলে না। তার কারণ এই যে জ্যোতিষীগণ মনে করেন মানুষ সচেতন কর্মের সাহায্যে অথবা ঈশ্বরের আশীর্বাদে অথবা এই দুইয়ের মিশ্রিতফলে ভাগ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তন করতে পারে। এই নিশ্চয়তার তারতম্যের কারণে অনেক বিজ্ঞানী জ্যোতিষশাস্ত্রকে মান্যতা দেন না। একদিকে যেমন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার একই সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং জ্যোতিষী ছিলেন, আবার অন্যদিকে বিজ্ঞানীদের অনেকে জ্যোতিষশাস্ত্রকে ভ্রান্ত প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন। 

আরও পড়ুন- এই মাস কেমন প্রভাব ফেলবে মীন রাশির উপর, দেখে নিন

জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, মনকে নিয়ন্ত্রণ করে চন্দ্র। এই চন্দ্র ঘর প্রত্যেকের সমান হয় না। এক একটি রাশির জন্য ভিন্ন নক্ষত্রে অবস্থান করে চন্দ্র। আর এই এক একটি নক্ষত্র পরিচালিত হয় এক একটি গ্রহ দ্বারা। তাই প্রতিটি নক্ষত্রের কর্ম বা চরিত্রও আলাদা হয়। আবার এই গ্রহগুলোর মধ্যে শত্রু গ্রহ, মিত্র গ্রহ ও সম গ্রহ আছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে বা জন্মছকে  বারোটি রাশি আছে সেগুলোও এক একটি গ্রহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। চন্দ্র জন্মছকে কোন রাশিতে এবং কোন নক্ষত্রে অবস্থান করছে তা থেকে জাতকের রাশি ও নক্ষত্র সম্বন্ধে ধারনা করা যায়।

আরও পড়ুন- মঙ্গলবারের সারাদিন কেমন কাটবে, দেখে নিন আজকের রাশিফল

সুখী দাম্পত্যের অর্থ হল, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের পরস্পরের প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা। পাশাপাশি তাদের হৃদয়ের অনুভুতিগুলিও প্রায় একই হয়। তবে সকল দম্পতির ক্ষেত্রে আবার অনুভুতিগুলি একরকম হয় না। হৃদয়ের অনুভুতি তখনই এক হয় যখন মনের মিল থাকে। তাই প্রত্যেক জাতক-জাতিকার রাশিচক্রে লগ্ন থেকে তার চরিত্র, স্বাস্থ্য এবং সমগ্র জীবন সমন্ধে ধারনা পাওয়া যায়। এই লগ্নও ভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিয়ের আগে রাশি বা লগ্নের বিষয়ে ধারণা থাকলে বা দাম্পত্য যোগে কোনও সমস্যা থেকে থাকলে তা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হয়। এখন যদি দেখা যায় পাত্রের রাশি ও নক্ষত্র পাত্রীর রাশি ও নক্ষত্রের শত্রুর গ্রহ বা বিপরীত চরিত্রের, সে ক্ষেত্রেই দাম্পত্য কহলের সম্ভাবনা থাকে। যা একটি মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় এনে দিতে পারে। তাই প্রথমেই বিবাহের আগে কোষ্ঠী বিচারের বিধান দিয়ে থাকেন জ্যোতিষীরা।