মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের সপ্তম দিনে নর্মদা জয়ন্তীর উত্সব পালিত হয়। এবার এই উত্সবটি পয়লা ফেব্রুয়ারি, শনিবার পালিত হয় সারা দেশ জুড়ে। নর্মদা ভারতের অন্যতম এবং ঐতিহ্যবাহী এক নদী। রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি অনেক ধর্মীয় গ্রন্থে এই নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়। দেবী নর্মদার জন্ম দেবাদিদেব মহাদেবের থেকেই। এই নদীর তীরে বহু জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে। বহু প্রাচীন কাল ধরে বহু মুনি-ঋষি এই নদীর তীরে তপস্যা করেছেন।

আরও পড়ুন- শনিবার সারাদিন কেমন কাটবে আপনার, দেখে নিন আজকের রাশিফল

পূরাণ মতে জানা যায়, একবার ভগবান শিব সংসার জগতের মঙ্গলার্থে তপস্যা করতে কৈলাশের শিখরে পৌঁছেছিলেন। যাত্রা পথে তাঁর ঘামের ফোঁটা এই পর্বতে পতিত হয়েছিল যার ফলে সেখানে একটি জলাশয় তৈরি হয়েছিল। এই জলাশয়ে একটি মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যাঁকে শঙ্করী ও নর্মদা নামে ভগবান শিব পরিচিতি দিয়েছিলেন। শিবের আদেশ অনুসারে, তিনি নদী হয়ে দেশের একটি বৃহৎ অঞ্চলে প্রবাহিত হতে শুরু করেছিলেন। 

 

 

আরও পড়ুন- পুজোর অপরিহার্য উপাদান বেল পাতা, কেন সব পুজোয় ব্যবহৃত হয় জানুন এর গুরুত্ব

স্কন্দ পুরাণ অনুসারে, প্রলয়ের সময়কালেও নর্মদা স্থায়ী থাকে এবং মৎস্য পুরাণ অনুসারে নর্মদার দর্শন, মানব জীবনে পবিত্রতা বয়ে আনে। এটি দেশের পাঁচটি প্রধান এবং সাতটি পবিত্র নদীর মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণনা করা হয়। এই নদীর উভয় তীরে বহু তীর্থস্থান রয়েছে এবং এই নদীর প্রতিটি জলকণা শঙ্করের রূপ বল মনে করা হয়। এতে স্নান করলেই, কেবল পুণ্য অর্জন নয় দর্শনেও পূণ্য লাভ হয়। 

আরও পড়ুন- খারাপ পরিস্থিতি কাটিয়ে ফিরিয়ে আনুন সৌভাগ্য, সামান্য় এই একটি উপাদানের সাহায্যেই

মহাদেবের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ওঙ্কারেশ্বর, যা ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গগুলির মধ্যে একটি, এই নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ছাড়াও ভৃগুক্ষেত্র, শঙ্খোদ্বার, ধূত্তপ, কোটিশ্বর, ব্রহ্মমূর্তি, ভাস্কর্তার্থ, গৌতমেশ্বর, সোমেশ্বর তীর্থ ইত্যাদি নর্মার বিভিন্ন ঘাটে অবস্থিত। নর্মদার প্রতিটি ঘাট পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। মহর্ষি মার্কণ্ডেয়, অগস্ত্য, কপিল এবং বহু ঋষি এই নদীর ঘাটে তপস্যা করেছেন। এটি ঋষিদের তপস্যা প্রভাবের ফলে মোক্ষদয়িনী নামেও পরিচিত। এই নদীতে পূন্যস্নান করলে সকল প্রকার পাপ দূর হয়।