জ্যোতিষীদের মতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুম্ভ রাশিতে মঙ্গল, সূর্য ও রাহুর এক অশুভ সংযোগ তৈরি হবে। এই ত্রিগ্রহী যোগের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, বড় দুর্ঘটনা এবং ব্যাপক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। 

জ্যোতিষীদের মতে, ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গল গ্রহ মকর রাশি থেকে বেরিয়ে কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে। সেখানে আগে থেকেই সূর্য ও রাহু বসে আছে। সূর্য ও মঙ্গল এমনিতে শুভ ফল দিলেও, তাদের উগ্র স্বভাবের জন্য এদের 'ক্রূর গ্রহ' বলা হয়। আর রাহুকে তো শুধু ক্রূর নয়, পাপ গ্রহের তালিকাতেও রাখা হয়। এই তিনটি ক্রূর গ্রহ ১৪ মার্চ পর্যন্ত কুম্ভ রাশিতে একসঙ্গে থাকবে। এর ফলে দেশ ও বিশ্বে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যাতে বহু মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উজ্জয়িনীর জ্যোতিষাচার্য পণ্ডিত নলিন শর্মা জানাচ্ছেন এই অশুভ জোটের প্রভাব দেশ ও বিশ্বে কেমন পড়বে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শত্রু দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে

রাহু, মঙ্গল এবং সূর্যের এই সংযোগ একটি বিরল ঘটনা, যা বহু বছর পর পর ঘটে। এই গ্রহগুলির একসঙ্গে থাকার ফলে শত্রু দেশগুলির মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বা যুদ্ধ শুরুও হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দেশগুলোও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হতে পারে। এই যুদ্ধে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যার জেরে জীবন ও সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতি হতে পারে।

বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা

কুম্ভ রাশিতে তৈরি হওয়া গ্রহের এই অশুভ যোগ কোনও বড় দুর্ঘটনার দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সময়ে বিমান দুর্ঘটনা বা বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। সূর্য ও মঙ্গল হল অগ্নি তত্ত্বের কারক, আর রাহু হল বায়ু তত্ত্বের। দুটি অগ্নি তত্ত্বের গ্রহের একসঙ্গে থাকাও শুভ বলে মনে করা হয় না। জুন ২০২৫-এ আমেদাবাদে হওয়া বিমান দুর্ঘটনার সময়েও এমনই এক অশুভ যোগ তৈরি হয়েছিল।

দেশ-বিদেশে অস্থিরতা বাড়বে

গ্রহের এই সংযোগ গোটা বিশ্বে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই সময় কোনও বড় ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হতে পারে অথবা কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতি বা কেলেঙ্কারির মামলায় ফেঁসে যেতে পারেন। শেয়ার বাজারেও ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাবে। ১৪ মার্চ সূর্য কুম্ভ রাশি থেকে বেরিয়ে মীন রাশিতে প্রবেশ করলে এই অশুভ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।