মাসের শেষ আকাশে তৈরি হচ্ছে মহা-ধনযোগ। বৃহস্পতি আর শুক্র মুখোমুখি, সাথে চাঁদের পূর্ণ দৃষ্টি। জ্যোতিষ মতে একে বলে ‘গজলক্ষ্মী রাজযোগ’। এই যোগ ১২ বছরে ১ বার আসে। টাকা, বাড়ি, গাড়ি, প্রমোশন—যা চাইবেন তাই। কিন্তু সব রাশি পাবে না। মাত্র ৫টা রাশির কপাল খুলছে। ব্যবসায় ৩ গুণ লাভ, চাকরিতে ডাবল ইনক্রিমেন্ট, আটকে থাকা টাকা হাতে আসবে। লটারি-শেয়ার মার্কেটেও চান্স।

মাসের শেষ তারিখ, পকেট ফাঁকা। বেতন ঢুকতে বাকি। EMI, বাড়ি ভাড়া, বাজারের লিস্ট—টেনশনে রাতে ঘুম নেই। ঠিক তখনই আকাশে খেলা শুরু। বৃহস্পতি মানে গুরু, ধন-সম্পদের কারক। শুক্র মানে বিলাস, টাকার কারক। উপরে চাঁদ ফুল বেঞ্চিং। জ্যোতিষীরা বলছে, এটা ‘রাজযোগ’ না, ‘মহারাজযোগ’। যার কপালে আছে তার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ১ রাতে চেঞ্জ। লোন শোধ হবে, নতুন ইনকাম চালু হবে, বস খুশি হয়ে প্রমোশন দেবে। কিন্তু খবরদার, ৫টা রাশি ছাড়া বাকিরা শুধু দেখবে। আপনার নাম লিস্টে আছে কিনা মিলিয়ে নিন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী এই মহাজাগতিক রাজযোগ? কেন ১২ বছরে ১ বার আসে

যোগের নাম: গজলক্ষ্মী রাজযোগ + ধনকুবের যোগ :

কবে: মাসের শেষ ২৯ তারিখ রাত ১১:৪২ থেকে ৩১ তারিখ রাত ১২:০০ পর্যন্ত রয়েছে।

কী হচ্ছে আকাশে: বৃহস্পতি এখন বৃষ রাশিতে। শুক্র ঢুকছে কন্যা রাশিতে। দুজনে ৭ম দৃষ্টিতে। মানে মুখোমুখি। এটাকে বলে ‘সমসপ্তম যোগ’। তার উপর মীন রাশিতে পূর্ণ চাঁদ। চাঁদ জল, মন, টাকার ফ্লো কন্ট্রোল করে।

ফল কী: বৃহস্পতি = জ্ঞান, সুযোগ, ভাগ্য। শুক্র = টাকা, গাড়ি, বাড়ি, বিলাসিতা। দুজনে হাত মেলালে ‘লক্ষ্মী-নারায়ণ যোগ’। ১২ বছর আগে ২০১৪ সালে হয়েছিল। তখন অনেকের লটারি, প্রপার্টি হয়েছিল। এবার আরও স্ট্রং কারণ সাথে শনি বক্রি কাটছে।

কারা পাবে না: যাদের জন্মছকে বৃহস্পতি বা শুক্র নিচস্থ, শত্রু ঘরে, রাহু-কেতুর সাথে। তাদের জন্য সাধারণ দিন। কিন্তু ৫টা রাশির জন্য জ্যাকপট।

* এই ৫ রাশির ঘরে টাকার জোয়ার: মিলিয়ে নিন আপনিও আছেন কিনা

১. বৃষ রাশি: রাজার মতো দিন

কেন: আপনার রাশিতেই বৃহস্পতি। উপরে শুক্রের ফুল দৃষ্টি। মানে ডাবল ধনযোগ।

কী হবে: আটকে থাকা পেমেন্ট হাতে আসবে। ৫-৬ মাসের টাকা ৩ দিনে। চাকরিতে বস হঠাৎ খুশি, প্রমোশন + ইনক্রিমেন্ট। ব্যবসায় নতুন পার্টি, বড় অর্ডার। জমি-বাড়ি কেনার যোগ। লোন পাস হবে।

টোটকা: সকালে কপালে চন্দনের ফোঁটা দিন। সাদা মিষ্টি খেয়ে বেরোন।

২. কন্যা রাশি: শুক্রের বরপুত্র

কেন: আপনার ঘরে শুক্র ঢুকছে। সাথে বৃহস্পতির দৃষ্টি। ‘মালব্য রাজযোগ’ চালু।

কী হবে: গ্ল্যামার, মিডিয়া, বিউটিসিয়ান, কাপড়, গয়নার ব্যবসায় ৪ গুণ লাভ। চাকরিতে ফরেন ট্রিপ, TA-DA বিল পাস। শেয়ার মার্কেট, ক্রিপ্টোতে লাভ। হঠাৎ গিফট, লটারি। প্রেমিকার থেকে দামি উপহার।

৩. ধনু রাশি: গুরুর নিজের ঘর

কেন: বৃহস্পতি আপনার রাশির অধিপতি। ৫ম ঘরে রাজযোগ। মানে স্পেকুলেশন, লটারি, শেয়ার।

কী হবে: ফাটকা টাকায় লাভ। পুরনো ইনভেস্টমেন্ট ম্যাচিওর করবে। স্টুডেন্টদের স্কলারশিপ, চাকরি। সন্তানের থেকে সুখবর, টাকা। বাবার সম্পত্তি পাবেন।

টোটকা: ৩১ তারিখ হলুদ কাপড়ে ৫টা কড়ি বেঁধে ক্যাশ বাক্সে রাখুন।

৪. মকর রাশি: শনির কৃপা শেষ, এবার গুরুর

কেন: শনির সাড়ে সাতি শেষের পথে। এবার ৫ম ঘরে বৃহস্পতির দৃষ্টি। ধন-সন্তান যোগ।

কী হবে: ২ বছর ধরে আটকে থাকা টাকা, PF, গ্র্যাচুইটি হাতে আসবে। প্রপার্টি বিক্রি হলে ডাবল দাম। নতুন চাকরির অফার, স্যালারি ৪০% জাম্প। ব্যবসায় সরকারি টেন্ডার।

৫. মীন রাশি: চাঁদ + গুরু দুই বন্ধু

কেন: আপনার রাশিতে পূর্ণ চাঁদ। ২য় ঘরে বৃহস্পতি। মানে ‘ধনভাব’ অ্যাক্টিভ।

কী হবে: কথায় টাকা। ইউটিউব, কনসালটেন্সি, টিচিং, লেখালেখি থেকে ইনকাম। ফ্যামিলি বিজনেসে লাভ। শ্বশুরবাড়ি থেকে অর্থ সাহায্য। গয়না, দামি জিনিস কেনার যোগ।

বাকি ৭ রাশি কী করবে? টাকা আসার ৩টে সাধারণ টোটকা:

আপনার রাশি লিস্টে নেই? মন খারাপ করবেন না। রাজযোগের এনার্জি সবাই পাবে, কম আর বেশি। এই ৩টে কাজ করুন:

১. লক্ষ্মী পুজো: সন্ধ্যায় ঘি-এর প্রদীপ জ্বালান। ৫টা কড়ি, ১ টাকা কয়েন মা লক্ষ্মীর পায়ে দিন। ‘ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ’ ১০৮ বার।

২. দান করুন: ৩১ তারিখ সাদা জিনিস দান—চাল, দুধ, চিনি, সাদা কাপড়। গরিবকে খাওয়ান। গুরু + শুক্র দুজনেই খুশি হয়।

৩. মানিব্যাগ শুদ্ধ করুন: পুরনো বিল, ভাঙা কার্ড ফেলে দিন। ১টা কাঁচা হলুদ + ১ টাকার কয়েন রাখুন। টাকা আটকাবে না।

এই ৩টে কাজ ভুলেও করবেন না: যোগ কেটে যাবে

১. ২৯-৩১ তারিখ ধার দেবেন না: টাকা দিলে আপনার যোগ অন্যের ঘরে চলে যাবে। ফেরত পাবেন না।

২. নখ কাটা, সেলুন না: বৃহস্পতি-শুক্রবার নখ, চুল কাটলে লক্ষ্মী রুষ্ট হয়।

৩. ঝগড়া, গালাগালি না: মুখ দিয়ে নেগেটিভ কথা বেরোলে চাঁদ খারাপ ফল দেয়। টাকার ফ্লো বন্ধ হয়ে যায়।

১২ বছরে ১ বার আসা যোগ। ৩ দিনের জানলা। কাজে লাগাতে পারলে ১২ মাস নিশ্চিন্ত। রাশি মিলিয়ে টোটকা করুন। কর্মও করুন। শুধু বসে থাকলে লক্ষ্মীও আসবে না।