Birth Date: সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমেরোলজি বলছে, এটা কোনও ম্যাজিক নয়; বরং আপনার জন্মতারিখের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই বিশেষ আধ্যাত্মিক গুণ বা নিরাময় ক্ষমতা।
সংখ্যাজ্যোতিষ (Numerology) অনুযায়ী, ১ থেকে ৯ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের সম্পর্কের সমীকরণ ভিন্ন হয়। বিশেষত, শনি (৮ সংখ্যা) বা কেতু (৭ সংখ্যা) দ্বারা প্রভাবিত জন্ম তারিখের মানুষরা প্রায়শই নিজেদের গুটিয়ে রাখেন এবং তাদের মন খারাপ বা বিষণ্ণতার প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
জন্ম তারিখ অনুযায়ী জানুন ব্যক্তির স্বভাব:
* জন্মসংখ্যা ৮ (যাদের জন্ম মাসের ৮, ১৭ বা ২৬ তারিখ): শনি গ্রহের দ্বারা শাসিত, এরা সাধারণত গম্ভীর ও নিঃসঙ্গ প্রকৃতির হন । জীবন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা ও কর্মজীবনের চাপে এরা প্রায়শই হতাশায় ভোগেন।
* জন্মসংখ্যা ৭ (যাদের জন্ম মাসের ৭, ১৬ বা ২৫ তারিখ): কেতু দ্বারা প্রভাবিত, এরা খুব গভীর চিন্তাশীল এবং আধ্যাত্মিক হন। বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্নতায় ভোগা এবং জন্মদিনের আশেপাশে এক ধরণের 'বার্থডে ব্লুজ' বা বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি ।
* জন্মসংখ্যা ৪ (যাদের জন্ম মাসের ৪, ১৩ বা ২২ তারিখ): রাহু দ্বারা প্রভাবিত, এরাও প্রায়শই মানসিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যান।
* যাঁদের জন্ম যে কোনও মাসের ২, ১১, ২০ বা ২৯ তারিখে, তাঁদের নিয়ন্ত্রক হল চন্দ্র। এই জাতক-জাতিকারা অসম্ভব স্পর্শকাতর এবং আবেগপ্রবণ হন। এঁদের সবচেয়ে বড় গুণ হল এঁরা অন্যের দুঃখ নিজের মনে করে অনুভব করতে পারেন। মানুষ যখন খুব ভেঙে পড়ে, তখন এঁরাই হয়ে ওঠেন সেরা শ্রোতা। শান্ত স্বভাবের এই মানুষগুলোর কাছে গেলে বা এদের ওপর ভরসা করলে যেন মানসিক অস্থিরতা নিমেষেই উবে যায়।
* মাসের ৩, ১২, ২১ বা ৩০ তারিখে জন্মালে আপনার ওপর থাকে দেবগুরু বৃহস্পতির বিশেষ আশীর্বাদ। এরা আসলে পথপ্রদর্শক। কেউ বিপদে পড়লে এঁরা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেন এবং আধ্যাত্মিকতার পথে এগিয়ে দেন। মজার বিষয় হল, প্রচণ্ড জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও এঁরা অসম্ভব নম্র হন। নিজের সমস্যাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অন্যদের মুখে হাসি ফোটাতে এঁদের জুড়ি নেই।
কেন ৪,১৩,২২,৭,৮,১৭,১৬,২৬ তারিখের ব্যক্তির মন খারাপ বেশি হয়?
১. উচ্চ প্রত্যাশা ও ব্যর্থতা: নিজের এবং অন্যের কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা রাখেন ।
২. হতাশা বা 'Birthday Blues': অনেকেই নিজের জন্মদিনে আনন্দ না পেয়ে উল্টে অবসাদ বা হতাশায় ভোগেন, যা Verywell Mind-এর এই প্রতিবেদনে এবং Quora-এর এই আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. একাকীত্ব: গভীর চিন্তা ও অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে এরা বন্ধু বা আপনজনের মাঝে থেকেও একাকীত্ব অনুভব করেন।
দ্রষ্টব্য: এই বিশ্লেষণ মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র ও সংখ্যাতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে, যা সকলের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। মন খারাপ বা বিষণ্ণতা গুরুতর হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
