সায়েন্স বলছে দরজার দিকে পা থাকলে ৩টে সমস্যা: ১. সাবকনশাস মাইন্ড "এস্কেপ রুট" খোলা দেখে রিল্যাক্স করতে পারে না = ঘুম হালকা, ২. দরজা দিয়ে আসা ড্রাফট/আলো/আওয়াজ সরাসরি পায়ে লাগে = পেশি টান, ৩. বাস্তু মতে এটা "এনার্জি ড্রেন" করে = সকালে ক্লান্তি।

বিছানায় শুয়ে পড়লেন, ফোন রেখে চোখ বন্ধ করলেন। কিন্তু সকালে উঠে মনে হচ্ছে রাতে ঘুমই হয়নি? পিঠ ব্যথা, মাথা ধরা, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব? আপনার ঘুমের পজিশন চেক করেছেন তো? AIIMS-এর স্লিপ ক্লিনিক বলছে, ৪০% ইনসমনিয়ার রোগীর কমন ভুল - দরজার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

"ডেড পজিশনে" ঘুমালে অজান্তে এই ৩টে বিপদ ডেকে আনছেন:

বিপদ ১: ব্রেইন রিল্যাক্স করতে পারে না = হালকা ঘুম, বারবার ভাঙা আমাদের সাবকনশাস মাইন্ড সবসময় "সেফটি" চেক করে। দরজা মানে এস্কেপ রুট। পা সেদিকে থাকলে ব্রেইন ভাবে "দরকার পড়লে দৌড়াতে হবে"। রেজাল্ট: REM স্লিপ কম হয়, ঘুম গভীর হয় না। একটু আওয়াজ হলেই ঘুম ভেঙে যায়। একে বলে "Light Sleep Syndrome"। ফিক্স: মাথা ঘুরিয়ে দিন। পা যেন দেওয়াল/খাটের দিকে থাকে। ব্রেইন বুঝবে "সেফ জোন", ঘুম গভীর হবে।

বিপদ ২: পায়ে টান, ক্র্যাম্প, রক্ত চলাচল কমে যাওয়া দরজার নিচ দিয়ে সবসময় হালকা হাওয়া আসে। AC/ফ্যানের ড্রাফটও সোজা পায়ে লাগে। পা খোলা থাকলে পেশি ঠান্ডা হয়ে টান ধরে। রাতে বারবার পায়ে ক্র্যাম্প হবে। আর পা উঁচু দিকে থাকলে হার্ট থেকে রক্ত ফিরতে একটু বাধা পায়। সকালে পা ফুলে যাওয়া, ঝিমঝিম করার কারণ এটা। ফিক্স: পা দেওয়ালের দিকে দিন। কম্বল দিয়ে পা ঢেকে রাখুন। রক্ত সার্কুলেশন ঠিক থাকবে।

বিপদ ৩: "এনার্জি ড্রেন" + মানসিক স্ট্রেস বাড়ে বাস্তু আর ফেংশুই দুটোই বলছে, দরজা দিয়ে "চি" বা প্রাণশক্তি ঢোকে-বের হয়। মাথা দরজার দিকে থাকলে পজিটিভ এনার্জি ঢোকে। পা দরজার দিকে থাকলে আপনার শরীরের এনার্জি দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। সায়েন্টিফিক ভাষায়: এটা একটা "সাইকোলজিক্যাল ট্রিগার"। অবচেতন মনে আপনি ভালনারেবল ফিল করেন। তাই স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল লেভেল হাই থাকে। সকালে উঠে ক্লান্তি, ইরিটেশন। ফিক্স: বেড ঘোরান। মাথা দক্ষিণ বা পূর্ব দিকে রাখুন। ইন্ডিয়ান স্লিপ সায়েন্স আর ভাস্তু দুটোই এটা সাপোর্ট করে।

ঘুম এক্সপার্টদের "পারফেক্ট পজিশন" রুল:

রুল ১: মাথার ডিরেকশন মাথা দক্ষিণ > পূর্ব > পশ্চিম। মাথা উত্তর দিকে একদম নয়। পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের সাথে মাথার আয়রন কনফ্লিক্ট করে। হার্টের ওপর চাপ পড়ে।

রুল ২: পায়ের ডিরেকশন পা উত্তর দিকে থাকলে "ডেড পজিশন"। পা পশ্চিম বা দেওয়ালের দিকে রাখুন। পায়ের তলা যেন দরজা/জানলা বরাবর না থাকে।

রুল ৩: পজিশন উপুড় হয়ে ঘুমাবেন না। ঘাড়-কোমরে চাপ পড়ে। বেস্ট চিৎ হয়ে বা বাঁ কাত হয়ে। বাঁ কাতে ঘুমালে হার্ট, ডাইজেশন দুটোই ভালো থাকে।

টেস্ট করে দেখুন ৭ দিন: আজ রাতেই খাটটা ১৮০° ঘুরিয়ে দিন। মাথা যেদিকে ছিল, পা সেদিকে দিন। ৭ দিন পর নিজেই ফারাক বুঝবেন। ঘুম গভীর হবে, সকালে অ্যালার্ম ছাড়া উঠতে পারবেন, মুড ভালো থাকবে।

শেষ কথা: অন্ধবিশ্বাসের জন্য নয়, নিজের ঘুমের জন্য পজিশন বদলান। দরজার দিকে পা = সাবকনশাস অ্যালার্ট মোড। দেওয়ালের দিকে পা = সাবকনশাস রিল্যাক্স মোড।