বিড়াল রাস্তা কাটলে অমঙ্গল হয় - এটা বিশ্বাস নাকি জ্যোতিষ? জানুন কোন দিকে বিড়াল গেলে কী ফল আর এর পেছনের যুক্তি।
বাড়ি থেকে বেরিয়েই যদি সামনে দিয়ে একটা বিড়াল রাস্তা কেটে চলে যায়, তাহলে অনেকেরই মনটা খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে যদি সেটা কালো বিড়াল হয়, তাহলে তো কথাই নেই। "আজ আর কাজ হবে না", "যাত্রা ভঙ্গ হয়ে গেল" - এই কথাগুলো আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু এই বিশ্বাসের পেছনে আসল কারণটা কী? জ্যোতিষশাস্ত্র সত্যিই কি বিড়ালকে অশুভ বলছে, নাকি এটা নিছকই কুসংস্কার?
জ্যোতিষশাস্ত্রে বিড়ালকে সরাসরি অশুভ বলা হয়নি। তবে বিড়ালকে গ্রহের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে কালো বিড়ালকে শনি আর রাহুর প্রতীক মনে করা হয়। জ্যোতিষীদের মতে, বিড়াল কোন দিক থেকে কোন দিকে যাচ্ছে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। যদি বিড়াল বাঁ দিক থেকে ডান দিকে যায়, তাহলে সেটাকে শুভ সংকেত ধরা হয়। এর মানে আপনার কাজে বাধা আসবে না, যাত্রা শুভ হবে। কিন্তু যদি বিড়াল ডান দিক থেকে বাঁ দিকে যায়, তাহলে সেটাকে অশুভ মানা হয়। মনে করা হয় রাস্তায় বা কাজে বাধা আসতে পারে। সেই কারণেই অনেকে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে যান, বা অন্য রাস্তা দিয়ে যান। কালো বিড়ালের ক্ষেত্রে এই ভয়টা আরও বেশি। কারণ কালো রং রাহু আর শনির সাথে জড়িত। তাই অনেকে মনে করেন কালো বিড়াল রাস্তা কাটলে নেগেটিভ এনার্জি বা শত্রুর কারণে কাজ আটকে যেতে পারে। তবে আবার কিছু প্রাচীন জ্যোতিষ গ্রন্থে বলা আছে, বিড়াল হল দেবী মাতঙ্গীর বাহন। সেই হিসেবে বিড়াল দেখা অশুভ নয়, বরং এটা একটা সংকেত মাত্র।
এবার আসি এই বিশ্বাসটা এলো কোথা থেকে। এর পেছনে কিন্তু শুধু জ্যোতিষ নয়, একটা বাস্তব যুক্তিও আছে। আগেকার দিনে রাস্তাঘাট খুব সরু ছিল, চারপাশে আলোও থাকত না। রাতের বেলা বিড়াল হঠাৎ করে সামনে চলে এলে ঘোড়ার গাড়ি বা মানুষের দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই বয়স্করা সাবধান করার জন্য বলতেন, বিড়াল রাস্তা কাটলে একটু দাঁড়িয়ে যাও। আস্তে আস্তে সেই সাবধানবাণীই কুসংস্কারের রূপ নিয়ে নিয়েছে। আরেকটা বড় কারণ হল মনস্তত্ত্ব। আমরা যখন বিড়াল দেখে ভয় পাই, তখন নিজেরাই নিজেদের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। তারপর কাজে কোনো গন্ডগোল হলে দোষ দিই বিড়ালের উপর। আসলে বিড়ালের কোনো দোষই নেই।
বিজ্ঞান অবশ্য এই সব কথা মানতে নারাজ। বিজ্ঞানীদের মতে, বিড়াল রাস্তা কাটার সাথে অমঙ্গল বা শুভ-অশুভের কোনো সম্পর্ক নেই। বিড়াল একটি স্বাধীন প্রাণী। সে তার খাবার খুঁজতে, সঙ্গীর কাছে যেতে বা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে রাস্তা পারাপার করে। এটা তার নিত্যদিনের কাজ। মানুষের ভাগ্যের সাথে এর কোনো যোগ নেই।
তাই সংক্ষেপে যদি বলা হয়, জ্যোতিষশাস্ত্রে ডান থেকে বাঁ দিকে বিড়াল যাওয়াকে অশুভ সংকেত বলা হয়েছে, বিশেষ করে কালো বিড়াল হলে। কিন্তু এর পেছনে প্রাচীন সতর্কতা আর মানুষের মানসিক ভয়ও কাজ করে। বিজ্ঞান এই বিশ্বাসকে সমর্থন করে না। দিনের শেষে আপনার মনোবল আর পরিশ্রমই ঠিক করে দেয় আপনার কাজ হবে কিনা। কোনো বিড়াল তা আটকাতে পারে না।


