বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে ঈদ-আল-আধা বা বকরি ঈদ। হিজরি ক্যালেন্ডারের ১২তম ও শেষ মাস ধুল হিজার দশম তম দিনে পালিত হয় ঈদ-আল-আধা। আকাশে নতুন চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই উত্‍সব পালন করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি সর্ববৃহৎ জাতীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও  ঈদ-আল-আধা। এই দুয়ের মধ্যেই অন্যতম একটি হল ঈদুল আযহা বা  ঈদ-আল-আধা। ইসলাম মতে, সর্বশ্রেষ্ঠ ত্যাগের প্রতীক এই কোরবানির উৎসব। এ দিনটি সারাবিশ্ব জুড়ে খুবই জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। সবাই এ দিন নতুন পোশাক পরে সাধ্য মতন খাওয়ারের আয়োজন করেন। 

এই উৎসবের আরেক নাম কোরবানির ঈদ বা বকরি ঈদ। এই ঈদের নাম বকরি ঈদ হওয়ার জন্য দুটি কারণ আছে। প্রথমটি হল এই ঈদ কোরবানির ঈদ বলে এই উৎসবে কিছু না কিছু আল্লা-কে উৎসর্গ করে কোরবান করতে হয়। এক সময় অবিভক্ত বাংলায় বকরি অর্থাৎ ছাগল ছাড়া অন্য কোনও কোরবানির পশু তেমন একটা পাওয়া যেত না, আর সেই থেকে ছাগল দিয়ে কোরবানি দেওয়ার কারণেই ঈদুল আযহা বা  ঈদ-আল-আধার নাম হয় বকরি ঈদ।  

এই উৎসবে কোনও ভেদাভেদ থাকে না। দরিদ্র ও গরিবদের ঈদের আনন্দে সামিল করা জরুরি বলে মনে করা হয় ইসলামে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতরাও  এই আনন্দের অংশীদার হয়।  মুসলমানেরা এ দিন ঈদের দুই রাকাত নামাজ পড়েন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এই দিনে দুঃস্থদের সাধ্যমত দান এবং অনুদান বিতরণ করা ধর্মীয় দিক থেকে বাধ্যতামূলক। তাই এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে একটি জাতীয় উৎসব। এই উৎসবে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে যান। 
 
ইসলাম মতে, ইব্রাহিম আল্লার স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী নিজের ছেলেকে আল্লার কাছে কোরবানি অর্থাৎ উৎসর্গ করতে গিয়েছিলেন। তখন স্বয়ং আল্লা তাঁকে দেখা দিয়ে একটা ভেড়া ইব্রাহিমের হাতে তুলে দিয়ে বলেন যে ছেলের বদলে এই ভেড়াটাকেই তাঁকে কোরবানি হিসেবে দেন। তারপর থেকেই এই উৎসবের আগে থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ভেড়া, ছাগল, উঠ কিনে তাকে যত্ন সহকারে পালন করে বকরি ঈদের দিনে আল্লার  নামে উৎসর্গ করেন।