কেবল গীতা নয়, বৃহদারণ্যক উপনিষদেও স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, মানুষ যেমন কর্ম করে, মৃত্যুর পর সে তেমনই পরিণতি লাভ করে। অর্থাৎ কর্মফল এবং পুনর্জন্ম একে অপরের পরিপূরক। এটি কর্মফল তত্ত্বের অন্যতম প্রাচীন এবং শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত।

Astro Tips: শাস্ত্র মতে, ভালো মানুষের দুঃখের কারণ শুধু পূর্বজন্মের কর্মফল নয়, বর্তমান জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত,স্বাধীন ইচ্ছার প্রয়োগ এবং এটি ঈশ্বরের পরীক্ষা বা উন্নতির একটি পর্যায়ও হতে পারে। যেখানে ভালো মানুষ দ্রুত তাদের পূর্বের সঞ্চিত পাপের ফল ভোগ করে মুক্তি পেতে চায়, যা তাদের আত্মিক বিকাশে সাহায্য করে। কর্মফল একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা এক জীবনে শেষ হয় না এবং এই দুঃখকে শাস্তির বদলে নিজেদের উন্নতির ধাপ হিসেবেও দেখা হয়।

কর্মফল তত্ত্ব ও দুঃখ:- 

* পূর্বজন্মের সঞ্চিত কর্ম: ভালো মানুষ যে দুঃখ পায়, তার একটি কারণ হতে পারে পূর্বজন্মে করা এমন কিছু মন্দ কাজ, যার ফল এই জন্মে ভোগ করতে হচ্ছে। এটি কর্মের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

* বর্তমানের কর্ম: বর্তমান জীবনে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত বা খারাপ কর্মও দুঃখের কারণ হয়, যা ভালো মানুষও করতে পারে।

* আত্মার শুদ্ধি: অনেক সময় ভালো মানুষের জীবনে কষ্ট আসে যাতে তাদের পূর্বজন্মের সঞ্চিত পাপ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং তারা মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করতে পারে, যা আত্মার উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

শাস্ত্রের ব্যাখ্যা:

* ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী: শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন যে ভালো মানুষের জীবনে খারাপ কিছু ঘটলেও তা আসলে তাদের পাপ মোচনের একটি প্রক্রিয়া, যাতে তারা দ্রুত শান্তি পেতে পারে।

* পরীক্ষা ও উন্নতি: শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি শুধু শাস্তি নয়, বরং ঈশ্বরের পরীক্ষা বা উন্নতির একটি পর্যায়, যেখানে ভালো কর্মের মাধ্যমে মানুষ আরও উন্নত হতে পারে।

* স্বাধীন ইচ্ছা: ভালো মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা থাকে এবং তাদের ভুল সিদ্ধান্ত তাদের ও অন্যদের জীবনে প্রভাব ফেলে, যা দুঃখের কারণ হয়।

তাহলে কী করা উচিত?

* বর্তমান কর্মে মনোযোগ: পূর্বজন্মের কর্মফল মেনে নিয়ে বর্তমান জীবনে ভালো কাজ করা, যা ভবিষ্যতের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে।

* ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস: ভালো কাজ করার পাশাপাশি ঈশ্বরের ওপর আস্থা রাখা এবং তাঁর করুণা লাভের চেষ্টা করা, কারণ তিনি বিচারকের চেয়েও বেশি করুণাময়।

* প্রচেষ্টা: ঈশ্বরের করুণা লাভের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা প্রয়োজন, কারণ ভালো কাজই ঈশ্বরের কৃপা আকর্ষণ করে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।