Solar Eclipse: গ্রহণ চলাকালীন সূর্য ও চন্দ্রের ওপর রাহু-কেতুর প্রভাব থাকে, যার ফলে প্রাকৃতিক ও মানসিক স্তরে অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে এই সময়টি মন্ত্র সিদ্ধি বা মন্ত্র জপের জন্য শ্রেষ্ঠ।

Solar Eclipse: সূর্যগ্রহণ চলাকালীন সময় আধ্যাত্মিক ও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার ১৭ই ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টে ২৬ মিনিটে শুরু হয় এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে। ২০২৬ এর এটি প্রথম সূর্যগ্রহণ।

এই সূর্যগ্রহণ চলাকালীন জপ করলে গ্রহদোষ, অশুভ প্রভাব এবং জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়ে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। এই সময়ে সূর্য মন্ত্র, মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, এবং বিষ্ণু বা শিবের নাম জপ করা অত্যন্ত কার্যকর। রাহু-কেতুর প্রভাব কমাতে রাহু মন্ত্র এবং সূর্য গায়ত্রী মন্ত্র জপ করাও খুব উপকারী বলে মনে করা হয়।

এই সময়ে ধ্যান, মন্ত্র জপ এবং ঈশ্বরের নাম স্মরণ করলে জীবনের সমস্ত বাধা, নেতিবাচক শক্তি এবং গ্রহদোষ দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। রাহু ও কেতুর প্রভাব কমাতে এই সময়ে বিশেষ মন্ত্র জপ করা উচিত।

সূর্যগ্রহণ চলাকালীন জপ করার শক্তিশালী মন্ত্র:

• সূর্য মন্ত্র (সৌভাগ্য ও স্বাস্থ্যের জন্য):

"ওঁ হ্রাং হ্রীং হ্রৌং সঃ সূর্যায় নমঃ""ওঁ ঘৃণি সূর্যায় নমঃ"

• রাহু ও কেতু শান্তির মন্ত্র (গ্রহদোষ দূর করতে):

"ওঁ ভ্রাং ভ্রীং ভ্রৌং সঃ রাহবে নমঃ""ওঁ ঐং হ্রীং কেতবে নমঃ"

• মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র (সুরক্ষা ও উন্নতির জন্য):

"ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্। ঊর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ॥"

• রাহু/গ্রহন শান্তির শ্লোক:

"তামোময় মহাবীম সোমসুর্যবিমর্দন। হেমতারা প্রদানেণ মম শান্তিপ্রদো ভব॥"

বিস্তারিত নিয়ম ও সতর্কতা:

* জপ বিধি: গ্রহণের সময় কোনো আসনে বসে শান্ত মনে ওপরের যেকোনো একটি মন্ত্র মালা দিয়ে (তুলসী বা রুদ্রাক্ষের মালা) জপ করুন।

* ইষ্ট দেবতা স্মরণ: আপনার ইষ্ট দেবতা বা শ্রী বিষ্ণু/শিবের নাম জপ করাও অত্যন্ত ফলদায়ী।

* নিষেধাজ্ঞা: সূর্যগ্রহণের সময় খাবার খাওয়া, ঘুমানো, চুল-দাড়ি কাটা, সেলাই করা, বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়।

* গর্ভবতী নারীদের সতর্কতা: গর্ভবতী নারীদের ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং ধারালো জিনিস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

* গ্রহণ পরবর্তী কাজ: গ্রহণ শেষ হলে স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরুন। এরপর সাধ্যমতো দান করুন (যেমন- চাল, ডাল, তেল বা টাকা)।

দ্রষ্টব্য: এই বিষয়গুলো ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি একটি মহাজাগতিক ঘটনা মাত্র।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।