মাসের শেষে পকেট ফাঁকা? জ্যোতিষ বলছে, মা লক্ষ্মীকে তুষ্ট করতে সোনা লাগবে না। সামান্য রুপোর গয়নাই ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারে। শুক্রবার নিয়ম মেনে রুপোর আংটি, নুপুর ও কয়েন/বিছা ধারণ করলে কাটে অর্থকষ্ট।
বন বন করে ঘুরবে ভাগ্যের চাকা! রুপোর এই গয়না পড়লেই আশীর্বাদ করবেন মা লক্ষ্মী “টাকা আসছে না, যা আসছে খরচ হয়ে যাচ্ছে” – মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমে এই হাহাকার এখন খুব কমন। একটা সময় ছিল যখন ভাবা হত সোনা কিনলেই লক্ষ্মী আসবে। এখন সিনারিও উল্টো। জ্যোতিষীরা বলছেন, মা লক্ষ্মী রুপোতেই বেশি তুষ্ট। কিন্তু কেন? শুক্রবার কোন ৩টি রুপোর জিনিস পরলে সত্যিই খুলবে টাকার রাস্তা জানেন কি?

১. রুপোর আংটি: চন্দ্রের জোরে ব্যবসার ভোলবদল জ্যোতিষ মতে, রুপো চন্দ্রের ধাতু। মন চঞ্চল থাকলে টাকা রোজগার হয় না। রুপোর আংটি মন শান্ত রাখে আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য শুক্রবার ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে রুপোর আংটি পরা শুভ। কর্পোরেটে ডিল আটকে আছে? ফ্রিল্যান্সারের পেমেন্ট আসছে না? এতে মা লক্ষ্মী প্রসন্ন হন এবং আয়ের নতুন রাস্তা খুলে যায়।
২. রুপোর নুপুর: নেগেটিভ এনার্জি আউট, লক্ষ্মী ইন ঘরে নেগেটিভ এনার্জি থাকলে টাকা আসে না, এলেও থাকে না। রুপোর নুপুর সেই নেগেটিভ শক্তি শুষে নেয়। বিবাহিত মহিলারা পায়ে রুপোর নুপুর পরলে সংসারে সুখ-শান্তি ও আর্থিক স্বচ্ছলতা বজায় থাকে। বিশ্বাস করা হয়, নুপুরের শব্দে মা লক্ষ্মী আকৃষ্ট হন।
৩. রুপোর কয়েন বা বিছা: ঋণ থেকে সঞ্চয়ের রাস্তা মানিব্যাগ বা ক্যাশ বাক্সে লক্ষ্মী-গণেশ খোদাই করা রুপোর কয়েন রাখলে কখনও অর্থাভাব হয় না। টাকা যেন ‘লক্ষ্মীর ঝাঁপি’ থেকে বেরোচ্ছে। এছাড়া কোমরে রুপোর বিছা পরলে ঋণের বোঝা কমে। ফ্ল্যাটের ইএমআই, ক্রেডিট কার্ডের বিল, পার্সোনাল লোনের চাপে জেরবার? বিছা ধারণ করলে ধীরে ধীরে সঞ্চয় বাড়তে শুরু করে।
৪. পরার নিয়ম: শুধু কিনলেই হবে না শুক্রবার সকালে স্নান সেরে রুপোর গয়না মা লক্ষ্মীর পায়ে ছুঁইয়ে তারপর ধারণ করুন। প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় ধূপ-দীপ দেখিয়ে প্রণাম করুন। শুক্র হল ভোগ, ঐশ্বর্য ও লক্ষ্মীর কারক গ্রহ। তাই শুক্রবারেই এই টোটকা সবচেয়ে ফলদায়ী।
তাহলে কি রুপো পরলেই বড়লোক? না। বিষয়টা হল ‘চেষ্টা’ বনাম ‘এনার্জি’। আপনি পরিশ্রম করছেন, কিন্তু ফল পাচ্ছেন না। রুপো আপনার অরা ক্লিন করে, নেগেটিভিটি কাটায়। ফলে আপনার পরিশ্রমের ১০০% রেজাল্ট আসে। যারা শুধু রুপো পরে বসে থাকবে ভাবছে, তাদের হবে না। আর যারা খাটছে তাদের জন্য রুপো ‘লাক ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করবে।
জ্যোতিষী ড. সুবর্ণা ব্যানার্জি বলছেন, “রুপো মানেই চন্দ্র। আর চন্দ্র মন ও অর্থের কারক। মন ঠিক তো সব ঠিক। মা লক্ষ্মী চঞ্চলা, কিন্তু রুপোর শব্দ ও ঔজ্জ্বল্য তাঁকে ঘরে বাঁধতে পারে।”
শেষ কথা: সোনার দাম আকাশছোঁয়া। কিন্তু মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পেতে দামি ধাতু লাগে না। সামান্য রুপোই পারে আপনার ভাগ্য বদলাতে। বিশ্বাস রাখুন, নিয়ম মানুন। কারণ মা লক্ষ্মী ভক্তি দেখেন, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স না। আর মন যখন ‘হ্যাঁ’ বলবে, তখন শুক্রবার থেকেই শুরু করুন।


