তুলসীদাস রচিত ৪০ চৌপাইয়ের হনুমান চালিশা শুধু স্তুতি নয়, এক শক্তিশালী এনার্জি শিল্ড। ‘ভূত পিশাচ নিকট নহি আবে’ লাইন মানেই নেগেটিভ এনার্জি, ভয়, দুঃস্বপ্ন দূরে থাকে। হনুমানকে অষ্টসিদ্ধি-নবনিধির দাতা বলা হয়।
জীবনে যখন চারদিক অন্ধকার, চাকরি নেই, শরীরে রোগ, ঘরে অশান্তি, রাতে ঘুমের মধ্যে ভয়ের স্বপ্ন, তখন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাশে দাঁড়ায় একটাই নাম। সঙ্কট মোচন হনুমান। আর তাঁর কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে সোজা রাস্তা ৪০ লাইনের হনুমান চালিশা।
তুলসীদাস ১৬ শতকে অবধী ভাষায় এই চালিশা লেখেন। ‘চালিশা’ মানে ৪০। ৪০টি চৌপাইয়ে বাঁধা আছে ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বড় পজিটিভ এনার্জির ফর্মুলা। এটা শুধু ভক্তি নয়, সাউন্ড থেরাপি।
কেন সঙ্কটে হনুমান চালিশা পড়বেন? ৫টা কারণ:
১. ভয়ের যম, নেগেটিভ এনার্জির কাটা: হনুমান চালিশায় আছে, ‘ভূত পিশাচ নিকট নহি আবে, মহাবীর জব নাম সুনাবে’। মানে যেখানে হনুমানের নাম হয়, ভূত-প্রেত, খারাপ শক্তি ১০০ হাত দূরে থাকে। মনোবিদরা বলেন, রাতে ভয় বা প্যানিক অ্যাটাকের সময় চালিশা পাঠ করলে ব্রেনে আলফা ওয়েভ তৈরি হয়। হার্টবিট নরমাল হয়, ভয় কেটে যায়। বাচ্চারা রাতে কাঁদলে বা দুঃস্বপ্ন দেখলে মাথার কাছে চালিশা পাঠ করুন।
২. শনি-রাহু-মঙ্গলের মহৌষধ: শনি দেব হনুমানের ভক্ত। রামায়ণে হনুমান শনিকে রাবণের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। কৃতজ্ঞ শনি বর দেন, “যে তোমার ভক্ত, তাকে আমি কষ্ট দেব না”। তাই সাড়ে সাতি, ঢাইয়া বা শনির দশা চললে মঙ্গল ও শনিবার চালিশা পড়লে শনির প্রকোপ ৭০% কমে। রাহুর মহাদশা, কেতুর দৃষ্টি, মাঙ্গলিক দোষেও হনুমান রক্ষাকর্তা। কারণ হনুমান নিজেই মঙ্গল গ্রহের অধিপতি।
৩. আত্মবিশ্বাসের বুস্টার ডোজ: ‘অষ্টসিদ্ধি নবনিধি কে দাতা’। মানে হনুমান ৮টা সিদ্ধি আর ৯টা নিধির মালিক। বুদ্ধি, বল, সাহস, যশ, ধৈর্য সব তাঁর কাছে চাইতে হয়। চাকরির ইন্টারভিউ, পরীক্ষা, কোর্ট কেস, অপারেশনের আগে ৭ বার চালিশা পড়ুন। গলা কাঁপবে না, মাথা ঠান্ডা থাকবে। হনুমানের মতো ‘করতে পারব’ এনার্জি চলে আসবে শরীরে।
৪. রোগ-ব্যাধির কবচ: ‘নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা, জপত নিরন্তর হনুমত বীরা’। যে রোজ হনুমানের নাম জপ করে, তার রোগ, ব্যথা, যন্ত্রণা নাশ হয়। আয়ুর্বেদ মতে চালিশার নির্দিষ্ট ছন্দে উচ্চারণ করলে নাভি থেকে শব্দ ওঠে। ফুসফুস, হার্ট, স্নায়ুতন্ত্রে চাপ পড়ে। অক্সিজেন সার্কুলেশন বাড়ে। ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি কমে।
৫. কর্মের বাধা কাটে: ‘দুর্গম কাজ জগত কে জেতে, সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে’। দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজও হনুমানের কৃপায় জলের মতো সোজা হয়ে যায়। প্রোমোশন আটকে আছে? লোন পাচ্ছেন না? বাড়ি বিক্রি হচ্ছে না? ৪১ দিন টানা সূর্যোদয়ের আগে স্নান করে ১১ বার করে চালিশা পড়ুন। কাজ হবেই।
কীভাবে পড়বেন যাতে ফল ১০ গুণ হয়? ১. সময়: ব্রহ্মমুহূর্ত ভোর ৪-৬টা বেস্ট। না পারলে স্নান করে সন্ধ্যায়। মঙ্গলবার, শনিবার মাস্ট। ২. নিয়ম: লাল আসনে বসে, সামনে হনুমানের ছবি, ঘি-এর প্রদীপ, লাল ফুল, বেসনের লাড্ডু বা গুড়-ছোলা ভোগ দিন। ৩. সংখ্যা: বিপদে ৭ বার, বড় সঙ্কটে ১০৮ বার। ১১ বা ২১ মঙ্গলবার উপোস করে পড়লে মনস্কামনা পূরণ হয়। ৪. উচ্চারণ: চেঁচিয়ে, স্পষ্ট করে, অর্থ বুঝে পড়ুন। ‘জয়’ শব্দে জোর দিন।
মনে রাখবেন: হনুমান চালিশা কোনও ম্যাজিক নয়। এটা আপনার ভেতরের ‘হনুমান’কে জাগায়। সেই হনুমান যে লঙ্কা পোড়াতে পারে, পাহাড় তুলতে পারে, সমুদ্র ডিঙোতে পারে। সঙ্কট আসলে চালিশা পড়ুন। ভয় পালাবে, রাস্তা খুলবে। কারণ সঙ্কটের সময় বজরংবলী নিজের ভক্তকে একা ছাড়েন না।
‘সঙ্কট তে হনুমান ছুড়াবে, মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবে’।


