প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে হনুমানজি ব্রহ্মচারী হলেও, তিনি তাঁর গুরু সূর্যদেবের কন্যা সুবর্চলাকে বিয়ে করেছিলেন। এই বিবাহ ছিল জ্ঞান অর্জনের একটি শর্ত এবং সাংসারিক মোহের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি বিবাহিত হয়েও ব্রহ্মচারী হিসেবেই পূজিত হন। 

এই বছর হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে ২ এপ্রিল, ২০২৬, বৃহস্পতিবার। আমরা বেশিরভাগ মানুষ এটাই জানি যে হনুমানজি ছিলেন ব্রহ্মচারী, অর্থাৎ তিনি ভক্তি ও সাধনায় পুরোপুরি মগ্ন থাকতেন। তাঁর শক্তি, ভক্তি আর আত্মসংযমের গল্পই আমরা শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু একটি প্রচলিত কথা অনুসারে, হনুমানজি বিবাহিত ছিলেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিয়ে করার পরেও হনুমানজি কেন ব্রহ্মচারী হিসেবে পরিচিত এবং কে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সুবর্চলা দেবী?

ব্রহ্মচারী হয়েও হনুমানজি কেন বিয়ে করেছিলেন?

কথিত আছে, হনুমানজি তাঁর গুরু সূর্যদেবের কাছ থেকে ন'টি দিব্যজ্ঞান বা বিদ্যা শিখেছিলেন। কিন্তু গুরু একটি শর্ত রাখেন যে, কয়েকটি বিশেষ বিদ্যা শুধুমাত্র বিবাহিত শিষ্যদেরই শেখানো হবে। হনুমানজির সংসারের প্রতি কোনওদিনই আগ্রহ ছিল না, কিন্তু জ্ঞান রাখাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সেই মুহূর্তে তাঁকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত কোনও লোভ বা ইচ্ছার জন্য ছিল না, ছিল শুধু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য।

কে ছিলেন হনুমানজির স্ত্রী সুবর্চলা দেবী?

কিছু কম প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, হনুমানজি সুবর্চলা দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। মূল ধর্মগ্রন্থগুলিতে এর উল্লেখ খুব কম থাকায় বেশিরভাগ ভক্তই এই বিষয়ে জানেন না। নিজের শিক্ষা সম্পূর্ণ করার জন্য হনুমানজি সূর্যদেবের কন্যা সুবর্চলা দেবীকে বিয়ে করেন। কিন্তু এটা কোনও সাধারণ বিয়ে ছিল না। এতে আবেগ বা মোহের কোনও জায়গা ছিল না। এটি ছিল একটি আধ্যাত্মিক এবং বিবাহ, যেখানে দুজনেরই উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম ও জ্ঞান অর্জন। বিয়ের পর সুবর্চলা দেবী তপস্যা ও সাধনায় নিজেকে ডুবিয়ে দেন। তাঁদের এই সম্পর্ক এটাই প্রমাণ করে যে, বিয়ে মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, কখনও কখনও জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের একটি মাধ্যমও হতে পারে।

বিয়ে করেও হনুমানজিকে কেন ব্রহ্মচারী বলা হয়?

হনুমানজিকে আজও ব্রহ্মচারী হিসেবেই মানা হয়। কেন? কারণ ব্রহ্মচর্য শুধু শারীরিক সংযম নয়, মন এবং ইচ্ছার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাও এর অঙ্গ। হনুমানজি কখনও সাংসারিক জীবন বা মোহে জড়াননি। তাঁর সমস্ত মনোযোগ ছিল রামভক্তি এবং ধর্মসেবার ওপর।

হনুমানজি ও সুবর্চলা দেবীর বিশেষ মন্দির

তেলেঙ্গানার ইয়েলান্ডুতে একটি अनोखा মন্দির আছে, যেখানে হনুমানজি এবং সুবর্চলা দেবী দুজনেরই পুজো হয়। এখানে আসা ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, এই মন্দিরে প্রার্থনা করলে বিবাহিত জীবনে ভালোবাসা ও শান্তি বজায় থাকে। এই মন্দিরটি শুধু একটি উপাসনাস্থল নয়, এটি এমন এক কাহিনি শোনায় যা আমাদের সাধারণ ধারণার থেকে অনেকটাই আলাদা।

কবে হনুমান জয়ন্তী (Hanuman Jayanti Date 2026)

ভগবান হনুমানকে শ্রীরামের সবচেয়ে বড় ভক্ত বলে মনে করা হয় এবং তাঁকে অষ্টসিদ্ধির দাতা বলা হয়। এমন বিশ্বাস আছে যে, হনুমান জয়ন্তীর দিন মন থেকে পুজো করলে ভয়, রোগ এবং জীবনের সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। প্রতি বছর এই উৎসব চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। এবার তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, কারণ পূর্ণিমা দু'দিন ধরে পড়ছে। পঞ্জিকা অনুসারে, এই বছর চৈত্র পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে ১ এপ্রিল সকাল ৭:০৫ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ২ এপ্রিল সকাল ৭:৪২ মিনিটে। কিন্তু উদয়া তিথি (সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি থাকে) অনুযায়ী, হনুমান জয়ন্তী ২ এপ্রিল ২০২৬-এ পালিত হবে।

হনুমান জয়ন্তী পুজোর শুভ মুহূর্ত (Hanuman Jayanti Puja Shubh Muhurat 2026)

পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের হনুমান জয়ন্তীর পুজোর জন্য ৩টি শুভ মুহূর্ত রয়েছে। সেগুলি হল-

সকাল ৬:১১ থেকে ৭:৪৫ পর্যন্ত - পুজোর জন্য সবচেয়ে ভালো সময়।

দুপুরের অভিজিৎ মুহূর্ত: ১২:০০ থেকে ১২:৫০ পর্যন্ত - এটিও খুব শুভ বলে মনে করা হয়।

সন্ধ্যা ৬:৩৯ থেকে রাত ৮:০৬ পর্যন্ত - এই সময়েও পুজো করা যেতে পারে।