ভীষ্ম দ্বাদশী ২০২৬ সালের ৩০শে জানুয়ারি, শুক্রবার পালিত হবে। এই দিনটি পিতামহ ভীষ্মের ইচ্ছামৃত্যু এবং পাণ্ডবদের দ্বারা তাঁর তর্পণকে স্মরণ করে পালিত হয়। 

ভীষ্ম পিতামহ মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র ছিলেন। তিনি দেবনদী গঙ্গা ও রাজা শান্তনুর সন্তান ছিলেন। রাজা শান্তনুই তাঁকে ইচ্ছামৃত্যুর বর দিয়েছিলেন। কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের সময় অর্জুন ভীষ্ম পিতামহকে আহত করেন। এরপর ভীষ্ম ৫৮ দিন শরশয্যায় ছিলেন। যখন তিনি হস্তিনাপুরকে সুরক্ষিত হাতে দেখলেন, তখন মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে তিনি প্রাণত্যাগ করেন। এরপর পাণ্ডবরা দ্বাদশী তিথিতে তাঁর তর্পণ ও পিণ্ডদান করেন। এই তিথিতেই ভীষ্ম দ্বাদশী ব্রত পালন করা হয়। এবার এই তিথিটি ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার পড়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই দিনে কীভাবে ব্রত-পুজো করবেন...

ভীষ্ম দ্বাদশী ২০২৬ শুভ মুহূর্ত

সকাল ০৮:৩৩ থেকে ০৯:৫৫ পর্যন্ত

দুপুর ১২:১৮ থেকে ০১:০১ পর্যন্ত

দুপুর ১২:৪০ থেকে ০২:০২ পর্যন্ত

সন্ধ্যা ০৪:৪৬ থেকে ০৬:০৮ পর্যন্ত

ভীষ্ম দ্বাদশী ব্রত বিধি

- ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে ব্রত-পূজার সংকল্প নিন। সারাদিন কিছু খাবেন না বা পান করবেন না। যদি এটি সম্ভব না হয়, তবে ফলাহার করতে পারেন।

- এই দিনে শুভ মুহূর্তে ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর পূজা করুন। একটি পরিষ্কার জায়গায় ছবি স্থাপন করে ফুলের মালা পরান। কুমকুম দিয়ে তিলক করুন এবং শুদ্ধ ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।

- এরপর ফল, পঞ্চামৃত, সুপারি, পান, দূর্বা ইত্যাদি জিনিস অর্পণ করুন। ইচ্ছামতো ভোগ নিবেদন করুন। ব্রাহ্মণদের দান-দক্ষিণা দিন। কোনো পবিত্র নদীতে স্নান করে অভাবীদের দান করুন।

- কোনও ব্রাহ্মণের মাধ্যমে ভীষ্ম পিতামহের উদ্দেশ্যে তর্পণ-পিণ্ডদান ইত্যাদি করুন। এতে ভীষ্ম পিতামহের পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের আত্মাও শান্তি পায়। পিতৃ দোষও শান্ত হয়।

ভীষ্ম দ্বাদশীর প্রতিকার

১. ভীষ্ম দ্বাদশীতে গরুকে সবুজ চারা খাওয়ান, মাছের জন্য পুকুরে আটার গুলি দিন। পাখিদের জন্য ছাদে দানা রাখুন।

২. ভীষ্ম দ্বাদশীতে 'ওম নমো নারায়ণায় নমঃ' মন্ত্র জপ করা উচিত। এতে আপনার সমস্ত পাপ নষ্ট হয়ে যায়।

৩. ভীষ্ম দ্বাদশীর দিনে অভাবীদের খাদ্য, বস্ত্র ইত্যাদি দান করুন। এতেও আপনি শুভ ফল পাবেন।