শুভ মাস হওয়ায় মাঘ মাসে নানা উপায় পালনের রীতি রয়েছে। তেমনই বিশেষ কিছু খাদ্যদ্রব্য এই মাসে খাওয়া উচিত নয় এবং কয়েকটি কাজও করা মানা। অন্যথায় ঈশ্বরের কোপের শিকার হতে হয়।

মাঘ মাসে মুলা খাওয়া নিষেধের প্রচলিত বিশ্বাস থাকলেও, এর পিছনে স্বাস্থ্যগত ও ধর্মীয় কারণ রয়েছে। এই মাসে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও আর্দ্রতার কারণে মুলোর কিছু প্রভাব শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে (যেমন থাইরয়েড), এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই মাস সংযমের মাস হওয়ায় কিছু বিশেষ খাবার ও কাজ বর্জন করা হয়, যেমন অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়ানো, এবং আধ্যাত্মিক কাজে মন দেওয়া।

মাঘ মাসে যা খাওয়া উচিত নয়:

* মুলা (Radish): মাঘ মাসে মুলোর মধ্যে এক ধরনের আঁশ বা দাঁত গজানোর প্রবণতা দেখা যায়, যা হজমের সমস্যা করতে পারে। এটি থাইরয়েড রোগীদের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করা হয়।

* অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার: মাঘ মাস সংযমের মাস হওয়ায় ভারী ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, যা শরীরকে আরও শীতল করতে পারে।

যে কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকা উচিত:

* অতিরিক্ত ভোগ: এই মাসে সংযম পালন করা জরুরি, তাই অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া, বিলাসিতা বা জাগতিক বিষয়ে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে বিরত থাকা উচিত।

* অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম: শীতের কারণে শরীর দুর্বল থাকে, তাই অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।

* অশুভ চিন্তা ও কাজ: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মাসে নেতিবাচক চিন্তা, ঝগড়া বা খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা এবং আধ্যাত্মিক ও সৎ কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

মাঘ মাসের বিশেষত্ব ও করণীয়:

* পূজা-অর্চনা ও দান: এই মাসকে দেবতাদের মাস ধরা হয়, তাই নিয়মিত পূজা, জপ এবং দরিদ্রদের দান করলে শুভ ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

* গরম ও পুষ্টিকর খাবার: খিচুড়ি, দুধ, গুড়, তিল, বিভিন্ন ধরনের ডাল ও সবজি খাওয়া যেতে পারে যা শরীরকে উষ্ণ ও পুষ্টি জোগায়।

* স্নানে সতর্কতা: খুব ঠান্ডা জলে স্নান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সকালে উষ্ণ জল ব্যবহার করা ভালো।