সূর্য দেবতা ধনু রাশি থেকে বিদায় নিয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করলে মকর সংক্রান্তির উৎসব পালিত হয়। এবার মকর সংক্রান্তির উৎসব পালিত হবে ১৪ জানুয়ারি শনিবার। মকর রাশি হল শনিদেবের রাশি। 

হিন্দু ধর্মে শনিদেবকে সূর্যদেবের পুত্র বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মনে করা হয়, মকর সংক্রান্তির দিন সূর্যদেব তাঁর ছেলে শনির বাড়িতে যান। শনির গৃহে যাওয়ার সময় সূর্য এত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে যে শনির তেজও তার সামনে ম্লান হয়ে যায়। সূর্য দেবতা ধনু রাশি থেকে বিদায় নিয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করলে মকর সংক্রান্তির উৎসব পালিত হয়। এবার মকর সংক্রান্তির উৎসব পালিত হবে ১৪ জানুয়ারি শনিবার। মকর রাশি হল শনিদেবের রাশি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিল ও গুড়ের গুরুত্ব

মকর সংক্রান্তির দিন কালো তিল বা সাদা তিল ও গুড় দিয়ে তৈরি লাড্ডু খাওয়া হয় এবং দান করা হয়। সূর্য দেবকে তিল দিয়ে পূজা করা হয়। সেই সঙ্গে ডাল, চাল, ঘি, লবণ, গুড় ও তিল দান করা হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এর দ্বারা সূর্য এবং শনিদেব উভয়ের আশীর্বাদ পাওয়া যায়। এখানে জেনে নিন তিল ও গুড়ের গুরুত্ব সম্পর্কে।

ধর্মীয় তাৎপর্য-

জ্যোতিষশাস্ত্রে তিলের সম্পর্ক শনিদেবের সঙ্গে এবং গুড়ের সম্পর্ক সূর্য দেবতার সঙ্গে বলে বিশ্বাস করা হয়। যেহেতু সংক্রান্তির দিন, সূর্য দেবতা মকর রাশিতে শনির গৃহে যান, এমন পরিস্থিতিতে তিল এবং গুড় দিয়ে তৈরি লাড্ডু সূর্য এবং শনির মধ্যকার মধুর সম্পর্কের প্রতিনিধিত্ব করে। জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্য ও শনি উভয় গ্রহকেই শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। এমন অবস্থায় তিল ও গুড়ের লাড্ডু প্রসাদ আকারে দান করে খাওয়া হলে শনিদেব ও সূর্যদেব উভয়েই প্রসন্ন হন এবং তাঁদের কৃপায় ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব জানুন

শীতের প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে গুড় ও তিলের লাড্ডু দান করা হয়। এছাড়াও মানুষ নিজেরাই এগুলো তৈরি করে সেবন করে। এটি তাদের শরীরে উষ্ণতা দেয় এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। বৈজ্ঞানিকভাবেও মকর সংক্রান্তির দিনে কালো তিল ও গুড় দিয়ে তৈরি লাড্ডু খাওয়া ও দান করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। আসলে মকর সংক্রান্তি উত্তর ভারতের একটি বড় উৎসব হিসেবে মনে করা হয়। এটি দাতব্য উৎসব হিসাবে মনে করা হয়। যখন এই উৎসব আসে তখন উত্তর ভারতে শীত পড়ে। এই ঠান্ডার প্রভাবে কাঁপতে থাকে সব দুঃস্থ মানুষ। গুড় এবং তিল উভয়েরই প্রভাবে খুব গরম অনুভূত হয়।