জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি দেবকে ন্যায়ের দেবতা বলা হয়। তিনি মানুষের ভালো ও মন্দ কর্ম অনুযায়ী ফল প্রদান করেন। যখনই শনি গ্রহ অশুভ অবস্থানে থাকে, তখন জাতকের কাজে বাধা, অকারণ কলহ, শরীর খারাপ এবং অর্থকষ্ট দেখা দেয়।

জীবন থেকে সমস্যা না কমলে এবং শনিদেব রুষ্ট মনে হলে, প্রতি শনিবার সরষের তেল ও কালো তিল নিবেদন করুন। অশ্বত্থ গাছের নিচে প্রদীপ জ্বালানো, ভিখারিকে দান এবং হনুমান চালিসা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। শনিদেবকে কর্মের দেবতা বলা হয়, তাই সততা ও নিয়ম মেনে শনিবার এই কাজগুলি করলে অশুভ প্রভাব কমে ও জীবনে স্থিতিশীলতা আসে।

হিন্দু ধর্মে শনি দেবকে বলা হয় 'কর্মফল দাতা'। তিনি যেমন কঠোর দণ্ডদাতা, তেমনই সন্তুষ্ট হলে রাজকীয় সুখ প্রদানকারী। বর্তমানে ২০২৬ সালের জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, শনি দেবের সাড়েসাতি এবং ধাইয়ার প্রভাবে অনেক রাশির জাতকই মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই শনিদেবকে সন্তুষ্ট করার জন্য করুন এই উপায় গুলি।

শনিবারে রুষ্ট শনিঠাকুরকে শান্ত করার বিস্তারিত উপায়:

* অশ্বত্থ গাছের নিচে প্রদীপ: শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের মূলে সরষের তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে জল নিবেদন করুন এবং সাতবার প্রদক্ষিণ করুন।

* শনি মন্দিরে দান: শনি মন্দিরে সরষের তেল, কালো তিল, কালো বস্ত্র, বা লোহার জিনিস দান করা অত্যন্ত শুভ ।

* অসহায়দের সাহায্য: শনিবার কোনো ভিখারি, অন্ধ বা অসহায় ব্যক্তিকে খাবার, কালো ছাতা, বা জুতো দান করলে শনিদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন।

* হনুমানজির পূজা: শনিদেবের অশুভ দৃষ্টি থেকে বাঁচতে হনুমানজির পূজা করা সবচেয়ে ভালো উপায়। শনিবার হনুমান চালিসা পাঠ করলে সব ধরনের সমস্যা দূর হয়।

* মন্ত্র জপ: শনিবার ১১টি অশ্বত্থ পাতা নিয়ে মালা তৈরি করে শনি মন্দিরে নিবেদন করুন এবং 'ওম শ্রীং হ্রীং শং শনৈশ্চরায় নমঃ' মন্ত্র জপ করুন।

* কালো তিলের ব্যবহার: স্নানের জলে সামান্য কালো তিল মিশিয়ে স্নান করা শনি দোষ মুক্তির একটি সহজ উপায়।

শনিবার যে কাজগুলো করবেন না:

* শনিবার লোহা বা লোহার তৈরি জিনিস কিনবেন না।

* কালো তিল বা সরষের তেল কিনবেন না, আগের দিন কিনে রাখুন ।

* অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকুন এবং মানুষকে প্রতারণা করবেন না, কারণ শনি কর্মের বিচারক।

দ্রষ্টব্য: এই বিষয়গুলি জ্যোতিষশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল।